• জলে পচেছে গলেছে শরীর, 'ও আমার স্বামী তো?' ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় নিরাপদ-সুকুমারের পরিবার
    News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • জীবিকার তাগিদে ৬৫ বছর বয়সেও সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন চাকদহের নিরাপদ হালদার, ৫৭ বছর বয়সী সুকুমার বর্মন। সূত্রের খবর, ১৩ জনের একটি দল দিঘা শংকরপুর থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ট্রলার ডুবে যাওয়ায় তাঁদেরই মধ্যে নয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে নদিয়ার বাসিন্দা নিরাপদ হালদার (৬৫) এবং সুকুমার বর্মন (৫৭) রয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে এখন ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় দুই পরিবার।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জুন বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন নিরাপদ হালদার ও সুকুমার বর্মন। ২ জুলাই দিঘা থেকে জয় মা কালী নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরে রওনা দেন তাঁরা। সমুদ্রে প্রবল ঝড় বৃষ্টির কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। তারপর থেকে আর খোঁজ মিলছিল না ট্রলারের। দীর্ঘ তল্লাশির পর রবিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ ও বন দফতর। পরে ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী এই ট্রলার থেকে ন’জন মৎস্যজীবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে দেহগুলির অবস্থা এমন যে, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

    নিরাপদ হালদারের পরিবারে রয়েছেন দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। মৃতদেহ শনাক্ত করতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কাকদ্বীপ রওনা দিয়েছেন। পরিবারের দাবি, চরম আর্থিক সংকটের কারণেই ৬৫ বছর বয়সেও জীবিকার তাগিদে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে বাধ্য হতেন নিরাপদ হালদার। নদিয়ার চাকদহ থানা এলাকার বাসিন্দা সুকুমার বর্মনের পরিবারও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে। সুকুমারের দেহও এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পরিবার। ঘরের লোকের খোঁজ পেতে তাঁদেরও একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট।

    রবিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর থানার পুলিশ, বন দফতর এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী মুক্তেশ্বর চরের কাছে ডুবো ট্রলারটি শনাক্ত করে। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। দুর্যোগ উপেক্ষা করে ট্রলারটিকে উদ্ধার করে গোবর্ধনপুরের সীতারামপুরে আনা হয়। রাতভর উদ্ধারকাজ চালিয়ে ট্রলারের ভিতর থেকে ন’জন জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও খোঁজ মেলেনি ছ’জনের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)