নবদ্বীপ থেকে চলল না পুরী স্পেশ্যাল এক্সপ্রেস,রথে জগন্নাথ ধাম পৌঁছতে চলবে বিকল্প ট্রেন,কখন ছাড়বে?
News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
রথযাত্রা উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন থেকে সরাসরি পুরী স্পেশ্যাল এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় মানুষ। পুণ্যার্থীদের এই ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে রেলের হাওড়া ডিভিশনের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী। তবে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি এক্সপ্রেস ট্রেন ছাড়ার জন্য যে ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, বিশেষ করে মেইনটেনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা, তা বর্তমানে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে নেই।
বিধায়ক শ্রুতি শেখর গোস্বামী জানান, রেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে অমৃত ভারত স্টেশন অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনের আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। এই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। তবে পুণ্যার্থীদের কথা চিন্তা করে রেলের কাছে একটি বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানান বিধায়ক। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থার আয়োজন করেছে।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, নবদ্বীপ ধাম স্টেশন থেকে একটি বিশেষ প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করা হবে যা যাত্রীদের সরাসরি কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এই প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি কলকাতা স্টেশনে পৌঁছানোর ঠিক এক ঘণ্টা পর, সেখান থেকে রথযাত্রা স্পেশ্যাল এক্সপ্রেস পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। কলকাতা স্টেশনে এক্সপ্রেস ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের সব ধরনের আধুনিক সুবিধা থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক আরও জানান, এই রথযাত্রা স্পেশ্যাল এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবাটি রথ উপলক্ষে প্রথমে ৩ দিন এবং পরবর্তীতে উল্টো রথের আগে থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সচল থাকবে। পুণ্যার্থীরা সাধারণ নিয়মে কাউন্টার কিংবা অনলাইন, উভয় মাধ্যম থেকেই এই ট্রেনের টিকিট কাটতে পারবেন এবং ইতিমধ্যেই বহু মানুষ টিকিট কেটেছেন।
সোমবার রাতে এই বিশেষ প্যাসেঞ্জার ট্রেনের উদ্বোধনী যাত্রার সূচনা করা হয়। এই উদ্যোগের পেছনে স্থানীয় সাংসদ জগন্নাথ সরকারও পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন বলে বিধায়ক জানান। রথযাত্রার দিনে সরাসরি ট্রেন না মিললেও, রেলের এই বিকল্প ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে নবদ্বীপ ও সংলগ্ন এলাকার পুরীগামী পুণ্যার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।