• সোলার প্যানেল, ন্যাপকিন মেশিন, জাতীয় শিক্ষানীতি এবার রাজ্যেও, স্কুল শিক্ষায় কী কী বদল?
    আজ তক | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ও PM-SHRI স্কিমে যোগ দিল রাজ্য। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, "কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের আসার কথা ছিল, কিন্তু তিনি আসতে পারেননি। সুকান্ত মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। দিল্লি থেকে ৮ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এসেছিলেন। আমরা ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ও PM-SHRI স্কিমে যোগ দিয়েছি।"

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা মেনে চলেনি বলে কেন্দ্রের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্র চাইলেও সেই অর্থ ছাড়তে পারেনি। সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চলতি আর্থিক বছরের জন্য আমাদের প্রাপ্য সম্পূর্ণ বরাদ্দ আমরা পাব।"

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিনের আলোচনায় উঠে এসেছে, কীভাবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, যাতে ছাত্রছাত্রীদের বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে না হয়। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কীভাবে আরও উন্নত করা যায় এবং শিক্ষক নিয়োগে কীভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে রাজনীতিকে দূরে রাখা যায়, যাতে শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিকীকরণের উপর।

    শুভেন্দু বলেন, "এবার থেকে স্কুলগুলিকে বিভিন্ন কম্পোনেন্ট গ্রান্ট দেওয়া হবে। আমরা ৮১ হাজার স্কুলকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছি। মিড-ডে মিল রান্নার জন্য সর্বত্র গ্যাসভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। ধাপে ধাপে সব জায়গায় সৌরবিদ্যুতের (সোলার) প্যানেল বসানো হবে। প্রতিটি স্কুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে। ছাত্রছাত্রীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থালা-বাসনে খাবার খাবে ও জল পান করবে, যাতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।"

    তবে এই উদ্যোগ নেওয়া শুরু হবে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে। যেসব স্কুলে এখনও পাখা নেই, সেখানে পাখা বসানো হবে, যাতে গরমে ছাত্রছাত্রীদের আর কষ্ট না হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি নির্দেশ দিয়েছি, মেয়েদের স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসাতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহারেরও সুপারিশ করেছি।"

    তিনি বলেন, "জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় আমরা উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলব। আমি শিক্ষামন্ত্রীকে নতুন শিক্ষা আইন সংশোধনের নির্দেশও দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব বিধানসভায় একটি বিল আনা উচিত, যাতে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কোনও অভিভাবকের হাতে দেওয়া যায়। বিজেপি-শাসিত প্রতিটি রাজ্যে এই নিয়ম রয়েছে, কিন্তু আমাদের রাজ্যে তা কার্যকর হয়নি।"

    মিড ডে মিলে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ অগাস্ট থেকে প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের জন্য ছাত্রপিছু বরাদ্দ ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। কলকাতা-সহ একাধিক জায়গায় মিড ডে মিলের দায়িত্ব নেবে ইস্কন। স্কুলে বাচ্চারা উন্নত মানের খাবার পাবে।


     
  • Link to this news (আজ তক)