• রামমন্দির: সুপ্রিম নোটিস কেন্দ্রকেও
    বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অযোধ্যা রামমন্দিরে প্রণামি দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার প্রায় এক মাস পার। এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ব্যাপারে ‘মৌন’। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের সামনে তাঁর সরকারকে দিতে হবে জবাব। প্রণামি চুরির ঘটনায় সিবিআই, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের মতো দাবিতে জমা পড়েছে একাধিক মামলা। সেইসব দাবি মানা হবে কি না, তা নিয়ে আপাতত কোনো নির্দেশ না দিলেও কেন্দ্র যে দায় এড়িয়ে যেতে পারে না, তা বুঝিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, সাতদিনের মধ্যে এই বিষয়ে মোদি সরকারকে জবাব দিতে হবে। লিখিতভাবে। 

    কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই নোটিস জারিতে আপত্তি জানালেও সুপ্রিম কোর্টকে বিরত করতে পারেননি। বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, স্রেফ কেন্দ্রীয় সরকারই নয়, প্রণামি চুরির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে যেসব আবেদন জমা পড়েছে, তার প্রেক্ষিতে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকেও জবাবদিহির নোটিস পাঠানো হল। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার চুরির তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি) গঠন করেছে। তাদেরও তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্দিরের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ মোছা যাবে না বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিন মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সিটের সদস্যদের নাম জানাতে হবে। আপাতত স্টেটাস রিপোর্ট দেখব। তারপর পরবর্তী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে।’ উত্তরপ্রদেশ সরকারের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করা তুষার মেহতা জানিয়ে দেন, স্টেটাস রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দেব। আদালত তা মঞ্জুর করেছে। আগামী ২০ জুলাই ফের শুনানি।  

    গত ৪ জুন অযোধ্যার রাম মন্দিরের বাথরুমে দাবিহীন দু’ লক্ষ টাকার নগদ ভরতি একটি ব্যাগ পাওয়া থেকে শুরু সন্দেহ। পরেরদিন ট্রাস্টের সচিব চম্পত রাই ঘনিষ্ঠ অবিনাশ শুক্লার বাড়ি থেকে পাওয়া যায় ৫৮ লক্ষ টাকা। ৭ জুন চুরির ঘটনা আসে প্রকাশ্যে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুন, চল্লিশ দিনে ৭০ বার চুরি হয়েছে রামমন্দিরে। জুতোর মধ্যে লুকিয়ে, পুঁটলিতে বেঁধে প্রণামি পাচার হয়েছে। এই ইস্যুতে সরব হয় কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। দাবি করে, রাঘব বোয়ালদের ধরতে হবে। তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র এবং সাগরিকা ঘোষ সোমবার প্রশ্ন তোলেন, এত বড়ো চুরির পরেও কেন ইডি তদন্তে নামেনি? সামান্য অভিযোগে যদি তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যায়, তাহলে রামমন্দিরের অ্যাকাউন্ট কেন নয়? 

    সুপ্রিম কোর্টে এদিন শুনানিতে মূল আবেদনকারী আইনজীবী অজয় কুমার রাই নিজেই সওয়াল করতে গিয়ে বলেন, ‘গত ২২ জুন মামলা ফাইল করেছি। তবে এর মধ্যে চুরির বিষয়ে জল অনেক দূর গড়িয়েছে। তাই চাইছি, শীর্ষ আদালতের নজরদারিতে তদন্ত হোক। চুরির নেপথ্যে কারা, প্রকাশ্যে আসুক।’ সওয়ালে গলা চড়িয়ে ফেলেন ওই আইনজীবী। তাতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত হালকা চালে বলেন, ‘এখানে এতো গলা ফাটিয়ে এনার্জি নষ্ট করে ফেলবেন না। বাইরে বেরিয়েও তো বলতে হবে। এনার্জি ধরে রাখুন।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)