চাঁচলের মকদমপুরে যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস
বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, চাঁচল: দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে রাজ্য সড়কের ধারে যাত্রী প্রতীক্ষালয় ছিল। সেই যাত্রী প্রতীক্ষালয় দখল করে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির ছেলের বিরুদ্ধে। প্রতীক্ষালয়টিকে সাধারণের ব্যবহারের দাবিতে সোমবার তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল-১ ব্লকের মকদমপুরে। চাঁচল-স্বরূপগঞ্জ রাজ্য সড়কের ধারে মকদমপুরে আগে যাত্রী প্রতীক্ষালয় ছিল। সেটি প্রায় পাঁচ দশক আগে নির্মাণ করেছিল স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানে স্থানীয় যাত্রীরা গাড়ি ধরার আগে বিশ্রাম নিতেন। অভিযোগ, তিন বছর আগে সেটি দখল হয়েছে। প্রতীক্ষালয়টি সংস্কার করে সবুজ রং করে তৃণমূলের পার্টি অফিস করা হয়েছে। ফলে বৃষ্টি বা রোদকে উপেক্ষা করেই খোলা আকাশের নীচে থেকে যাত্রীদের বাস বা যানবাহন ধরতে হয়। তৃণমূলের চাঁচল ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অঞ্জনা সাহার ছেলে অশোক সাহা সেটি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। আগে তৃণমূল নেতাদের দাপটে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে সেটি যে দলীয় কার্যালয় তা মানতে চাননি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির ছেলে তৃণমূল নেতা অশোক সাহা। তিনি বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের জন্য ঘরটি সংস্কার করা হয়েছিল। এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে ভবনটি সংস্কার করা হয়। দলীয় কার্যালয় হিসেবে সেটি ব্যবহার করা হয়নি। সেটি পুলিশের জন্য বা সাধারণের জন্য ব্যবহার করলে ঘরের চাবি হস্তান্তর করতে রাজি আছি।
বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা অর্ণব সাহা বলেন, তিন বছর আগে প্রতীক্ষালয়টি দখল করে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির ছেলে। যাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন। এটি সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হোক। আরেক বাসিন্দা বাবলু চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ঘরটি খুলতে সাহস পাননি তৃণমূলের নেতারা। এখনও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। তালা খুলে ঘরটি সাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হোক। এই যাত্রী প্রতীক্ষালয়টি তৃণমূলের পার্টি অফিস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।-নিজস্ব চিত্র