• জেলা সভানেত্রী থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না: মহুয়া গোপ
    বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জেলা সভানেত্রী থাকলেও ২০২৪ সালের পর থেকে কার্যত কোনো ক্ষেত্রেই আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। জলপাইগুড়িতে কৃষ্ণ দাসের কাছে বন্ধক রাখা ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত শিবিরের জলপাইগুড়ি জেলা সভানেত্রী হিসাবে নাম ঘোষণার পর কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মহুয়া গোপ। শুধু তাই নয়, মহুয়ার দাবি, বিধানসভা ভোটের আগে দলের প্রতি আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দলের পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেয়। 

    মহুয়ার দাবি, জলপাইগুড়িতে কৃষ্ণ দাস সমানে আমাকে ম্যালাইন করেছে। আর ততই তাঁর গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে দলে। এখন কেন কৃষ্ণ দাসের সম্পর্কে এত অভিযোগ উঠছে? যদিও মহুয়ার এ হেন অভিযোগ ঘিরে পালটা তোপ দেগেছেন শিলিগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, খাতা খুললে অনেক সমস্যা। মোদ্দা কথা হল, ওঁর মতো অনেকেই এখন কমফোর্ট জোন খুঁজছেন। বেশি কিছু মন্তব্য করতে চাই না। শুধু এটুকু বলব, যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থারই নমিনেটেড জেলা সভাপতি ছিলেন।

    এদিকে, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে মহুয়ার দাবি, বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসেনি। জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কী অবস্থা, তা নিয়ে কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ডেকেছেন। সেকারণে কলকাতায় গিয়েছি। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতি করার জন্য তো প্ল্যাটফর্ম লাগে। সেই প্ল্যাটফর্ম পেতেই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছি। 

    ঋতব্রত শিবিরে আগেই নাম লিখিয়েছেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। তাঁর বক্তব্য, ফল ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কালীঘাট থেকে ফোন আসেনি। বাড়িতে তো চুপ করে বসে থাকতে পারব না। সেকারণেই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছি। 

    মহুয়া গোপের মন্তব্য নিয়ে অবশ্য কিছু বলতে নারাজ জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। বলেন, আমি এখন পুর পরিষেবাতেই মন দিতে চাই। তবে মহুয়ার বক্তব্যকে স্রেফ অজুহাত বলে মনে করেন জলপাইগুড়ি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • Link to this news (বর্তমান)