• বারুইপুর কাণ্ড: ৮ দিন পুলিশ হেপাজতে ধৃত সিপিএম নেতা
    বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনার পরে এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। দেহ আটকে অবরোধ, পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশ আক্রান্ত, গণপিটুনিতে মৃত্যু সবই হয়। এই ঘটনায় ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে উসকানি, ভাঙচুর সহ ২৭টি ধারায় মামলা রুজু করেছে বারুইপুর থানা। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় রেলওয়েজ অ্যাক্টের ধারাও। সোমবার তাঁকে  বারুইপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক ধৃতকে আটদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আদালতে সওয়াল জবাবের সময় বাম ও বিজেপি আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। তাঁদের থামাতে হস্তক্ষেপ করতে হয় খোদ বিচারককে।

    এদিন, সকালে ডিম থেরাপির ভয়ে সিপিএম নেতাকে হেলমেট পরিয়ে বের করে তোলা হয় গাড়িতে। তাঁকে আদালতে আনার খবরে ভিড় করেন সিপিএম কর্মী সমর্থকরা। পালটা জমায়েত করেছিলেন বিজেপির কর্মীরাও। আদালতে ঢোকার সময় লাহেক বলেন, আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে জড়ানো হয়েছে আমায়।  দুপুর ৩টের পরে এজলাসে শুনানি শুরু হয়।  বেশ কিছুক্ষণ শুনানির পর অর্ডার রিজার্ভ করে রাখেন বিচারক। পরে স্পেশাল সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ধৃত ব্যক্তি সরাসরি এই ঘটনায় যুক্ত। তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরে ভাঙচুর, গণপিটুনি সহ গোলমালের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সব নথি জমা দিয়েছি। ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন জানিয়েছিলাম। অন্যদিকে, লাহেকের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য তাঁর মক্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের নামে প্রহসন চলছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করছিল লাহেক। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোটা তাঁর দোষ! তবে এদিন কোর্টের ভিতরে ও বাইরে উত্তেজনা তৈরি হলেও, পুলিশের হস্তক্ষেপে বড়ো ধরনের অশান্তি হয়নি।
  • Link to this news (বর্তমান)