নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: উচ্ছেদ নয়, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলির ক্ষেত্রে ‘সংকোচনে’র নীতি নিয়েছিল নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি (এনডিআইটিএ)। সেই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিল। তারপর রবিবার দোকানের কাঠামো, মাথার উপর ছাউনি খুলে নিয়েছিলেন বেশিরভাগ দোকানদার। সোমবার ছিল সংকোচনের প্রথমদিন। ছাতা নিয়ে গুটিকয়েক দোকানদার শুধু খুলেছিলেন। বহু দোকান ছিল বন্ধ।
সেক্টর ফাইভে আগুন জ্বালানো নিষেধ। তাই যাঁরা দোকান খুলেছিলেন তাঁরা বাড়ি থেকে বানিয়ে এনেছিলেন খাবার। কিন্তু খাবার গরম নয় বলে বহু ক্রেতার মুখভার। ঠান্ডা খাবার শুধু নয়, বৃষ্টিতে দাঁড়ানোর জায়গা নেই বলেও অনেকে দাঁড়িয়ে খেতে পারেননি। ফুটপাত থেকে পার্সেল নিয়েছেন। অফিসে বসে অনেক ক্রেতা অনলাইনে ডেলিভারি নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এনডিআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাউকে উচ্ছেদ করা হয়নি। আইন মোতাবেক কিছু গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। দোকানদাররা তা মেনে নিয়েছেন।
সল্টলেক সেক্টর ফাইভের প্রতিটি মোড়েই ফুটপাতে আছে অস্থায়ী খাবারের দোকান। সেগুলির ব্যবসায়ীদের কথায়, প্রায় ৯৭৩টি দোকান রয়েছে নিক্কোপার্ক এলাকা পর্যন্ত। আইটি কর্মীদের একটি বড়ো অংশ ওইসব দোকান থেকেই খাবার কিনে খেতে অভ্যস্ত। তবে অভিযোগ, নয়া নির্দেশে পুরোপুরি উচ্ছেদ না হলেও ওই দোকানগুলির উপর মারাত্মক কোপ পড়েছে। এনডিআইটিএ জানিয়েছিল, ফুটপাতের উপর সবাইকে স্থায়ী কাঠামো সরিয়ে ফেলতে হবে। ফুটপাতের কিছু অংশ ছেড়ে ছাতা নিয়ে বসতে পারবে তারা। সোমবারের মধ্যে দোকান সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছিল। রবিবার সেক্টর ফাইভের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকে। ফলে সেদিনই বেশিরভাগ দোকানদার কাঠামো খুলে নেন।
সোমবার কলেজ মোড়, গোদরেজ ওয়াটার সাইড, টেকনো ইন্ডিয়া মোড় থেকে স্বাস্থ্যভবন ইত্যাদি রাস্তায় দেখা গিয়েছে কয়েকজন দোকানদার নতুন ছাতা ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করেছেন। বহু দোকান বন্ধ আছে। এক বিক্রেতা বলেন, বাড়ি থেকে খাবার বানিয়ে বিক্রি করতে বলা হয়েছে। অল্প করে বানিয়ে এনেছিলাম। দুপুরের আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসা করতাম। এখন দুপুরেই বাড়ি চলে যেতে হবে। আগে পরোটা, চাউমিন, রোল সঙ্গে সঙ্গে বানিয়ে দিতাম। এখন আগুন জ্বালানোই নিষেধ। এভাবে ব্যবসা করব কীভাবে? অন্য এক দোকানরদার বলেন, ছাতা নিয়ে বসেছি। কিন্তু এই বৃষ্টি আড়াল করা যাচ্ছে না। যাঁরা খাবেন তাঁরা বসবেন কোথায়? ভিজে যাবেন তো। আগে মাথার উপর ছাউনি ছিল। বৃষ্টি হলেও বসে খাওয়া যেত। এদিন অনেকে পার্সেল করিয়েছেন। বাড়ি থেকে বানিয়ে আনা বলে খাবার ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। তাই অনেকে খেতে চাননি। আগে গরম পেতেন বলে খেতেন। আর এক দোকানদার বলেন, বাড়ি থেকে খাবার বানিয়ে কত মানুষকে দেওয়া সম্ভব? খাবার বানানো বা গরম করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক সরকারের পক্ষ থেকে। নিজস্ব চিত্র