ট্রেনের ফাঁকা বার্থ সবজির মতোই বিক্রি করে দেন টিটিইরা: হাইকোর্ট
বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘টিটিইরা ট্রেনের ফাঁকা বার্থ বাজারের সবজির মতো বিক্রি করেন!’ ট্রেনে মাদক খাইয়ে লুটের একটি ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করল হাইকোর্ট।
২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিয়ালদহগামী তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে দুই যাত্রীকে মাদক খাইয়ে সর্বস্ব লুট করা হয়। ওই ঘটনায় মৃত্যুও হয় সুনীলকুমার দাস নামে এক যাত্রীর। অপর যাত্রী অরুণ চক্রবর্তী হাসপাতালের চিকিৎসায় সুস্থ হন।
সংরক্ষিত কামরায় ওই দুই যাত্রীর ন্যায্য টিকিট ছিল না। অভিযোগ, কোনো টিকিট পরীক্ষককে টাকা দিয়ে তাঁরা ওই ট্রেনের এস-৮ কামরায় বার্থ জোগাড় করেন। যাত্রাপথে তাঁদের সঙ্গে কয়েকজনের আলাপ হয়েছিল। তারা ওই দু’জনকে মাদক মেশানো খাবার ও পানীয় খাওয়ায়। তাতে তাঁরা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তখন তাঁদের সর্বস্ব লুট করে পালায় ওই দুষ্কৃতীরা। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ওই ঘটনায় নিম্ন আদালতে দোষীদের সাজাও হয়েছে।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামী। শুনানিতে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, ‘টিটিইরা ট্রেনের ফাঁকা বার্থ বাজারের সবজির মতো বিক্রি করেন।’ তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেসে টিটিইদের ওই ভূমিকাকে আদালত ‘অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, জেরায় ডাক পাওয়া টিটিই শুধু নন, ট্রেনের যাত্রাপথে তার আগে ও পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিটিই-রাও নিজ নিজ কর্তব্যপালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বিচারপতিদের আরও মন্তব্য, ‘টাকার বিনিময়ে বার্থ বরাদ্দই অপরাধের সুযোগ করে দেয়। টিটিই-রা নিয়মিত টাকা নিয়ে সংরক্ষণহীন যাত্রীদের অনুরোধে বার্থ বরাদ্দ করে দেন। সেই কারণে এই ধরনের অপরাধের সুযোগ তৈরি হয়।’
আদালত জানিয়েছে, ‘ভারতীয় রেলের টিটিই-দের উপযুক্ত গাফিলতিই এই অপরাধ সংঘটনের প্রধান কারণ।’ এই রায়ের কপি পূর্ব রেলের জিএম এবং দেশের অন্যান্য রেলকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ‘দোষী’ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট সর্বোচ্চ শাস্তিরই নির্দেশ দিয়েছে।