• মাঝরাতে এক্সপ্রেসওয়েতে শ্যুটআউট, গ্যাংওয়ারে নিজের রিভলভারেই খুন দুষ্কৃতী রাজা
    বর্তমান | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ‘গ্যাংওয়ার’। রবিবার মধ্যরাতে এলোপাথাড়ি গুলিতে খুন কুখ্যাত দুষ্কৃতী জগদীশ দত্ত ওরফে রাজা (৪৬)। বেধড়ক মারে গুরুতর জখম তার দুই সঙ্গী দীপ চৌধুরী ও সুমন চৌধুরী। তাদের আর জি কর হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ পাঁচ দুষ্কৃতীকে আটক করেছে। তবে মূল অভিযুক্ত  সুমন রায় পলাতক। পুলিশ এর নেপথ্যে উত্তর দমদমের এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান সহ রাজার বিরোধী একাধিক গ্যাংয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তবে রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হওয়ার দিনই দুষ্কৃতীদের মধ্যে গ্যাংওয়ার ও শ্যুটআউটের ঘটনায় আতঙ্কিত দমদমের সাধারণ মানুষ। পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং সাফ বলেছেন, ‘দুষ্কৃতীদের মধ্যে পুরানো শত্রুতা থেকেই এই খুন। কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ 

    উত্তর দমদম পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড়, আদর্শপল্লির বাসিন্দা জগদীশ দত্ত ওরফে রাজা। বাম জমানা থেকে উত্তর দমদমের খালাসিকোটা, নিমতা ও দমদম এলাকায় ছিল তার দাপট। তৎকালীন এক পুর চেয়ারম্যানের ছত্রচ্ছায়ায় সে ত্রাস হয়ে উঠেছিল। একের পর এক খুন, হুমকি ও তোলাবাজির কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল তার। ২০১১ সালে পালাবদলের পর রাজা গ্রেপ্তার হতেই এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া খালাসিকোটায় নতুন ‘দাদা’ সুমন রায় উঠে আসে। জেল থেকে বেরিয়ে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নিমতা ও বিরাটির নির্দিষ্ট এলাকায় কাজের সুযোগ পেলেও রাজা কিন্তু খালাসিকোটা ফিরে পায়নি। উলটে বেলঘরিয়ার এক তৃণমূল নেতার শেল্টারে থেকে সে নতুন ‘এলাকা তৈরি’র চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে পরিবর্তিত জমানায় রাজা গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দাপট দেখাতে শুরু করে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তাই অনেকটাই চাপে পড়ে গিয়েছিল সুমন-গ্যাং।

    পুলিশ সূত্রে খবর, খালাসিকোটার বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোডে সুমনের পার্টি অফিসে মধ্যরাতে দুই সঙ্গীকে নিয়ে হানা দিয়েছিল রাজা। তাকে দেখেই সুমনের দলবল চম্পট দেয়। ওই অফিসে ভাঙচুর শেষ করে সঙ্গীদের নিয়ে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সার্ভিস রোডে সুমনদের আড্ডার ঠেকে যায় রাজা। সেখানে তাদের পিকনিক ছিল। পিস্তল উঁচিয়ে খুনের হুমকি দেয়। বচসা চলার সময় আচমকাই রাজার হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় সুমনের দলবল। তারপরই শুরু হয় দুই সঙ্গীকে লোহার রড দিয়ে মারধর। পরে দমদম থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় নার্সিংহোমে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাজাকে মৃত ঘোষণা করে। দুই সঙ্গীকে আর জি করে স্থানান্তরিত করা হয়। যদিও একাংশের দাবি, রাজার পিস্তল নয়, সুমনের দলবল নিজেদের আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা পরপর অন্তত ৮-১০ রাউন্ড গুলি চলার আওয়াজ পেয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)