অরণ্য সপ্তাহের সূচনাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের জমানাকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্য জুড়ে যথেচ্ছ ভাবে গাছ কাটা হয়েছে। কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে জঙ্গল। তার পরিবর্তে গোটা রাজ্য কংক্রিটের জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ খুঁজতেই চলতি বছর দলের জনপ্রতিনিধিদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে যোগদানের আহ্বান করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের সাংসদ-বিধায়কদের লক্ষ লক্ষ গাছ লাগানোর পরামর্শ দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সল্টলেকের বনবিতানে অরণ্য সপ্তাহের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আগের তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে বিঁধে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের রাজ্য কংক্রিটের জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। আমরা কোথাও কোনও পরিকাঠামো উন্নয়নে ছাড়পত্র দিলে বলে দিই, দুই-তৃতীয়াংশ পরিকাঠামোর জন্য। বাকি এক-তৃতীয়াংশ বৃক্ষরোপণের জন্য। হেলিকপ্টারে যখনই উঠি , শিউরে উঠি নীচের দিকে তাকিয়ে। অরণ্যসুন্দর ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার কী অবস্থা হয়েছে! হাসিমারা যাওয়ার পথে দেখি তরাই-ডুয়ার্স, চালসার অবস্থা ভয়ঙ্কর। ধ্বংস তো সব কিছু করে দিয়েছেন। গাছটাকেও ছাড়েনি আপনারা।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে ভাবে অরণ্য ধ্বংস হয়েছে, তাতে পরিবেশের মান খারাপ হয়েছে দিনে দিনে। এই পরিস্থিতিতে মুক্তি পেতেই বৃক্ষরোপণে জোর দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বলেন, ‘৫ জুন, পরিবেশ দিবসে আমরা লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলাম, এই বছর ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগাব। ৫ জুন আমাদের ৭ লাখ গাছ লাগানোর টার্গেট ছিল। আমরা ৯ লক্ষের বেশি গাছ লাগিয়েছি।’
তবে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, শুধু গাছ লাগালেই হবে না। নজরদারিও করতে হবে। গাছেরও রক্ষণাবেক্ষণ দরকার। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি এক সময়ে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। শুধু গাছ লাগালে হবে না। মনিটরিং করতে হবে। এক হাজার গাছ লাগালে, তিন-সাড়ে তিন বছর পরে আমরা ৫০০-৫৫০ গাছকে দাঁড় করাতে পারতাম। গাছ লাগালে ২ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। আসুন দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব, অরণ্যসুন্দর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তুলি।’
দলের সাংসদ বিধায়ক-সহ জনপ্রতিনিধিদের গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিধায়করাও তো নিজের কেন্দ্রে এক লক্ষ গাছ লাগাতে পারেন। সাংসদেরাও তো পারেন তাঁদের কেন্দ্রে সাত লক্ষ গাছ লাগাতে। তবে গাছ পূর্ণতা না পাওয়ার আগেই যেন তা কেউ কেটে না ফেলে, সেটাও দেখতে হবে।’
নতুন সরকারের আমলে বন দপ্তরকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আগের সরকার বন দপ্তরকে অবহেলা করেছে। বরাদ্দ দেয়নি। লোকবল দেয়নি। পরিকাঠামো দেয়নি। ওডিশা-ছত্তীসগঢ় থেকে শিখে আসুন। কী ভাবে বন দপ্তরকেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পরিণত করা যায়, সেটা শিখে নিন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার সেটা করবে।’