৫ লক্ষ টাকার অনুদানে নতুন অক্সিজেন পেল মুর্শিদাবাদের ঐতিহ্যবাহী রাধাবল্লভ জিউর রথযাত্রা
News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
: মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি শহরের লালাবাবুর প্রতিষ্ঠিত রথ আজ ২৫০ বছরের বেশি প্রাচীন। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা। রথযাত্রার আগে সেজে উঠছে মন্দির। চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি । এবছর রাজ্যে সরকারের উদ্যোগে মিলেছে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান। ফলে নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে মেলা কমিটি।
জানা যায়, রাঢ় বঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দি। সন ১১৫০ থেকে ১১৬০ এর মধ্যবর্তী কোনও এক সময়ে এখানকার সিংহবংশীয় রাজপরিবার কর্মচারী ও কিছু প্রজা সহযোগে এখানে বসবাস শুরু করেন। গোড়াপত্তন হয় প্রাচীন জনপদ কান্দির। কিভাবে এই স্থানের নাম কান্দি হয়েছিল তা বিশেষ জানা যায় না। যদিও অনেকে বলে থাকেন, কান্দি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ ‘কন্দর’ থেকে জাত। যার অর্থ বড় খাল বা নালা।
কন্দর থেকে এই অঞ্চল কান্দি নামে পরিচিত। কাঁধাড় বা কাঁধা শব্দটি আজও বাংলার কৃষক সমাজে প্রচলিত আছে। এর অর্থ কোনও বড়ো খাল বা নদী সংলগ্ন জমি যা অনেকটা মানুষের কাঁধের মত ঢালু। কান্দির সিংহবংশীয় রাজারা প্রায় হাজার বছরের প্রসিদ্ধ রাজবংশ। এই বংশের সবথেকে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন লালাবাবু। লালাবাবুর পিতৃদত্ত নাম ছিল কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ। এই কৃষ্ণচন্দ্র ছোটবেলা থেকেই খুব ভক্তিবান ছিলেন। কূলদেবতা রাধাবল্লভের মন্দিরে তিনি প্রতিদিন ধ্যানজপ করতেন। বলাবাহুল্য এই রাধাবল্লভ মন্দিরের রথই বর্তমানে কান্দির সবথেকে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ৷
প্রায় ২০০ বছর আগে শ্রীক্ষেত্র পুরী থেকে ঘুরে এসে রথযাত্রার উৎসবের সূচনা করেন। কান্দি শহরের প্রাচীন মন্দিরের মধ্যে অন্যতম রাধাবল্লভ জিউর মন্দির। এই মন্দির থেকে প্রতি বছর রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার আয়োজন করা হবে। ইতিমধ্যেই রথযাত্রা উপলক্ষে বসতে শুরু করেছে মেলা। মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই রথ পরিক্রমা করে কান্দি শহর। লালাবাবুর প্রতিষ্ঠিত তিন রঙে রঙিন রথে অধিষ্ঠিত রয়েছেন প্রচলিত রীতি অনুসারে জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা। প্রাচীন এই রথযাত্রা দেখতে ভিড় করেন দূর দূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ। যার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:৩০ মিনিটে রথ বের হবে। গোটা কান্দি শহর পরিক্রমা করে আবার মন্দিরে ফিরে আসবে। আগে পাশেই মাসির বাড়ি থাকলেও, বর্তমানে সেই বাড়ি ভগ্নদশায় পরিনত হয়েছে। ফলে আবার মন্দিরে ফিরে আসে প্রভু জগন্নাথ। রাখা হয় অন্যঘরে। চলে আট দিন ধরে নিত্য পূজো ও ভোগ নিবেদন। এবছর রাজ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান মিলতেই আরও ভাল করে মেলা-সহ রথযাত্রা উৎসব পালন করা হবে বলেই জানা গিয়েছে।