এই সময়, আলিপুরদুয়ার: গত ২৪ ঘণ্টায় লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের সিংহভাগ এলাকা। এর ফলে ফের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সুভাষিণী চা-বাগানে।
রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ বছর হাসিমারায় রেকর্ড ২১৫.৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরেই এ দিন ভোর থেকে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হ্যামিল্টনগঞ্জ ও কালচিনি শহরের একাধিক মহল্লা। একে টানা বৃষ্টি, তার উপরে কালচিনি, চিফুলা ও রায়মাটাং চা-বাগানের জল ঢুকে পড়ায় আরও বিপত্তি তৈরি হয় হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারে। সকালে বাজারের বহু দোকানে জল ঢুকে যায়। ভিজে যায় জিনিসপত্র। অনেকেই এ দিন ঝাঁপ খুলতে পারেননি।
এ দিকে, টানা বৃষ্টিতে ডিপোপাড়া, সুভাষপরি, বাসস্ট্যান্ড, স্টেশনপাড়া, কালীবাড়ি মোড় ও ফরোয়ার্ডনগর এলাকা কোমর সমান জলের তলায় চলে যায়। ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে বাজারের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণেই জলে ডুবে গিয়ে গোটা এলাকা।
হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, '১৯৯৪-তে বাজারে কয়েকটি নিকাশিনালা নিমণি হয়েছিল। সেগুলি দিয়েই বৃষ্টির জল বাজারের পাশে বাসরা নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু গত ১৫ বছরে নিকাশিনালা নিয়মিত সাফাই না-হওয়ায় সেগুলি বুজে গিয়েছে। পঞ্চায়েত প্রশাসনকে বার বার বলা সত্ত্বেও কাজ করেনি কেউ।' হ্যামিল্টনগঞ্জ কালীবাড়ি রথযাত্রা মেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ নস্কর বলেন, 'জলে মাঠ ডুবে যাওয়ায় শতাব্দীপ্রাচীন মেলার প্রস্তুতি মার খেয়েছে। জলের জন্য ব্যবসায়ীরা মাঠে পসরা নামাতে পারছেন না।'
তৃণমূল পরিচালিত লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ধীরেন বাগোয়ার বলেন, 'পঞ্চায়েতের সীমিত আর্থিক ক্ষমতায় হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজারের নিকাশিনালা সাফ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ব্লকে জানানো হয়েছে।' এ দিকে বাসরা নদীতে জল বাড়ায় কালচিনির মেচপাড়া ও সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা-বাগান বর্তমানে বিচ্ছিন্ন। হাউড়ি, বাংরি ও তিতি নদীতে জলস্ফীতির কারণে একই ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মাদারিহাটের টোটোপাড়া। আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। এর ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছে জেলা প্রশাসন।