দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। সঙ্গে গিয়েছিল ফরেন্সিক দলও। তারাও ঘটনাস্থল ঘুরে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকাকে রেললাইনের ধারে যে জায়গায় ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, মঙ্গলবার সেখানেই গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় তিন অভিযুক্ত কবীর মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে সাক্ষী হিসেবেও দু’জন উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অকুস্থলে প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে সেখানে পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয় সে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময়ে এক তদন্তকারী অফিসারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল প্রভাস। এক রাউন্ড গুলিও চালিয়েছিল। পাল্টা পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়ে খতম করেছে প্রভাসকে। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পরে আবার ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।
গত শনিবার বারুইপুরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দেখা করেছিলেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্ত তাঁর নজরদারিতেই চলবে। তদন্ত এমন ভাবে হবে যে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। প্রসঙ্গত, শুভেন্দু রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীও। তাঁর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে নির্যাতিতার বাবা বলেছিলেন, ‘যে ভাবে তদন্ত এগোচ্ছে, তাতে আমরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, বারুইপুরে মোট চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি হলো, নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন। দ্বিতীয় মামলাটি হলো, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময়ে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু। তৃতীয় মামলা— পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং গাড়ি ভাঙচুর। আর চতুর্থ মামলা রেল অবরোধ এবং রেলের সম্পত্তি নষ্ট সংক্রান্ত।