• শ্রাবণী মেলাকে 'জাতীয় উৎসব' ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!
    আজকাল | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • মিল্টন সেন: সামনেই শ্রাবণী মেলা। পূর্ণার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্প বৃষ্টি। মঙ্গলবার তারকেশ্বরে সূচনা হবে 'সন্ত সম্মেলন'। রাজ্যের বাইরে থেকে আসা সাধুরা সন্তরা যোগ দেবেন। 

    তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার লক্ষ্যে আয়োজিত সাধুসন্তদের এই সম্মেলনে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ১৮ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শ্রাবণী মেলা। মেলা চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। রাজ্যে পালা বদলের পর এই বছর তারকেশ্বরের শ্রাবনী মেলাকে জাতীয় মেলা হিসাবে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

    মঙ্গলবার বৈদ্যপুর বাউনার পার এলাকার মাঠে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারকেশ্বর মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ। এই প্রাঙ্গণে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে থেকেও সাধু সন্তরা আসবেন। বঙ্গীয়সন্ত সমাজ এর ডাকে এদিন সন্ত সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সকাল দশটা নাগাদ সাধু সন্তরা তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেবেন।

    এরপর মহাদেবের ছবি রথে তুলে কলস যাত্রা করে সাধুসন্তরা মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে এসে পৌঁছবেন। প্রধান মঞ্চের পাশে তৈরি হয়েছে সেবা শিবির। কারণ, দূরদূরান্ত থেকে সেই শিবিরে আগত পূর্নার্থীদের কেউ অসুস্থ হলে, দ্রুত তাঁদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এই শিবির। 

    এই বছর শ্রাবণী মেলার বিশেষ আকর্ষণ থাকছে তারকেশ্বরে পায়ে হেঁটে আগত তীর্থযাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি। এছাড়া ১৫ তারিখ থেকে তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন রাজবাড়ী মাঠে মহারুদ্র যজ্ঞ চলবে পাঁচদিন ধরে। 

    বৈদ্যপুর এলাকায় তারকেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। কাল সেই মঞ্চে উপস্থিত হবেন মুখ্যমন্ত্রী।  সোমবার মঞ্চ পরিদর্শন করেন হুগলী গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুঁয়ার ভূষণ সিং। প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মঞ্চের ভেতর এবং বাইরে গোটা এলাকা পরিদর্শন করেন। ছিলেন তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। জাতীয় উৎসব ঘিরে তারকেশ্বরের বাসিন্দারা উৎসাহিত। 

    বিধায়ক সন্তু পান বলেন, "শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় উৎসব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রাবণী মেলার জন্য বাজেট তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেই বাজেটের অনুমোদন করেছিলেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে এই মেলা হচ্ছে।" পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তত্ত্বাবধানে শ্রাবণী মেলা সেজে উঠছে। বঙ্গীয় সন্ত সমাজের ডাকে আগামীকাল থেকে সন্ত সম্মেলন শুরু হচ্ছে।

    ৩০ হাজার মানুষের বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। মূল মঞ্চের দুপাশে দুটি করে হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য শিবির করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর জন্য তৈরি হয়েছে মেগা কন্ট্রোল রুম। এর পাশাপাশি তিনি সেবা শিবির গুলি পরিদর্শন করে দেখবেন। মূল মঞ্চের পাশেই জলযাত্রীদের জন্য থাকছে মহিলা ও পুরুষদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। গোটা রাস্তা জুড়ে আলো দিয়ে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। 

    হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি হবে এবং মন্দির চত্বরে এলাকায় যজ্ঞ শুরু হবে। পাঁচ দিন ধরে চলবে যজ্ঞ। সাংস্কৃতিক মঞ্চকে তারকেশ্বরের মন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে। তবে এটা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, বলেছেন রিষড়া প্রেম মন্দিরের মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী নিরগুনা নন্দ জি। 

    এদিন তিনি বলেছেন, "অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের শ্রাবণী মেলা জাঁক জমকপূর্ণভাবে পালন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সনাতন ধর্মের তীর্থস্থান বাবা তারকনাথের মন্দির। এবছর সাধুসন্ত মহারাজদের নিয়ে ধর্ম সম্মেলন করছি তারই উদ্বোধন হবে মঙ্গলবার। সারা বাংলা থেকে আসছে দেড় হাজার সাধুসন্ত। উত্তরবঙ্গ ,বিহার বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু মহারাজরা আসবেন। আগামীকাল এই ধর্ম সভায় এসে শ্রাবণী মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন রাজবাড়ীর মাঠে হবে মহারুদ্রযজ্ঞ। সেখানে প্রত্যেকদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ মন কাঠ, দেড় টিন করে ঘি আহুতি দেওয়া হবে। পুণ্যার্থীদের মঙ্গল কামনায় এই যজ্ঞ করা হবে। বিহারের মঠ থেকে পুরোহিতরা আসবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে তারা যোগ্য করবেন। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীদের আশায় আয়ের একটা উৎস বাড়বে।" একইসঙ্গে এই ধর্ম সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    ছবি পার্থ রাহা।
  • Link to this news (আজকাল)