দীক্ষা ভুঁইয়া: কৃষিতে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় কৃষি এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যেমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্নে কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্র-রাজ্যের “ডাবল ইঞ্জিন” সমন্বয়ের বার্তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাসন ও পরিকাঠামো খাতে কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা মিলছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, কৃষি, উদ্যানপালন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ বিকাশ, গ্রামীণ উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ‘বিকশিত ভারত জি-রামজি’, ‘লাখপতি দিদি’ এবং প্রায় ৮০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রায় সমস্ত প্রকল্পেই পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ধান-ধান্য কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি জুন মাসে মনরেগা প্রকল্পের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ২,৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ১,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ) নিয়েও বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, উপভোক্তা তালিকার চূড়ান্ত যাচাই শেষ হওয়ার আগেই এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে সমীক্ষার সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে, যাতে কোনও প্রকৃত উপভোক্তা বাদ না পড়েন।
কৃষি ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য পৃথক কৃষি রোডম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুঁচুড়ায় ধান গবেষণার নতুন কেন্দ্র, মালদায় আইসিএআর-এর ১০০ কোটি টাকার ‘ক্লিন প্ল্যান্ট’ প্রকল্প, আলু ও পাটের বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা, ভুট্টা, মাখানা, আম, লিচু, ফুল ও পানচাষের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্র নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি, কিষান ক্রেডিট কার্ড এবং ডিজিটাল কৃষি প্রকল্পে আরও বেশি কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে কৃষি গবেষণা, মৃত্তিকা পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মনরেগা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন আবেদনকারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি, নতুন কর্মসূচিতে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ থাকবে এবং অদক্ষ, অর্ধদক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্য যথাক্রমে ৩০০, ৪৫০ ও ৬০০ টাকা পর্যন্ত দৈনিক মজুরির কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের দু’দিনের সফরকে “পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করলে কৃষি, আবাসন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন করে সাধারণ মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ কুমার ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুষ্মন্ত কুমার মণ্ডল, উদ্যানপালন মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, রাষ্ট্রমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, সাংসদ শান্তনু প্রামাণিক, বিধায়ক অশোক দিন্দা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।