• অরণ্য সপ্তাহে বন পাচার রুখতে কড়া নির্দেশ শুভেন্দুর
    আজকাল | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া

    অরণ্য সপ্তাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী, বন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণ, গাছের দু’বছরের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করলেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গাছের দু’বছরের রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করেনি আগের সরকার। তিনি জানান, শুধু অবহেলাই নয়, আগের সরকার রাজ্যের পাশাপাশি বনাঞ্চল বা অরণ্যকেও ধ্বংস করে দিয়েছে।

    মঙ্গলবার সপ্তাহব্যাপী অরণ্য সপ্তাহ শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আকাশপথে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের সময় ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং তরাই-ডুয়ার্সের বনাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি তাঁর নজরে এসেছে।

    পূর্বতন সরকার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘দুই-তৃতীয়াংশ কংক্রিট নির্মাণ করতে হলে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ গাছ লাগানোর প্রয়োজন।

    কিন্তু বিগত ১৫ বছরে তা একেবারেই হয়নি। তবে শুধু গাছ লাগালে হবে না। বৃক্ষরোপণের পরে অন্তত দু’বছর তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। যাতে গাছগুলি বড় হওয়ার আগে কেটে না নিতে পারে পাচারচক্র।’

    উল্লেখ্য, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যে বনসৃজন, বন সংরক্ষণ এবং বন দপ্তরের পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশপাশি, চলতি বছরে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

    একইসঙ্গে গাছ পাচার, অবৈধ কাঠের মিলের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান, বন দপ্তরের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং বনকর্মীদের পরিকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বনভূমি রক্ষায় শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, অন্তত দু’বছর ধরে লাগানো গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে চলতি বছরের জন্য ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করে জনপ্রতিনিধি, শিল্প সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    পঞ্চায়েত সদস্য, পুর প্রতিনিধি, বিধায়ক এবং সাংসদদের নিজ নিজ এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক গাছ লাগানোর লক্ষ্য নির্ধারণেরও পরামর্শ দেন। পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় ব্যাপক হারে নারকেল গাছ রোপণের পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি রথযাত্রা উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি সেবা শিবির থেকে ফলের গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। বন দপ্তরকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গাছ পাচার, গাছ চুরি এবং বেআইনি কাঠের মিলের বিরুদ্ধে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালাতে হবে।’

    পাশাপাশি, কর্মরত অবস্থায় মৃত বনকর্মীদের পরিবারের বিষয়গুলি নিষ্পত্তি এবং বনরক্ষীদের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। পাশাপাশি জানান, এরপর থেকে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে বন দপ্তরের নিয়োগ করা হবে।

    পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে বন দপ্তরকে পর্যাপ্ত অর্থ, জনবল এবং পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি। ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের বন ব্যবস্থাপনার মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গে বন প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার উপরও জোর দেন তিনি।
  • Link to this news (আজকাল)