• আবাস যোজনার ১ লক্ষ বাড়ির টাকা দিল কেন্দ্র, কবে মিলবে পাকা ঘর?
    আজ তক | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • PM Awas Yojana West Bengal: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে বড় খবর। রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন বাড়ির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হল। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বৈঠক সারেন। তারপরেই এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। শুধু আবাস যোজনাই নয়, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, গ্রাম সড়ক নির্মাণ এবং ১০০ দিনের কাজ নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তাঁরা।

    এদিন মিটিং শেষে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বলেন, বাংলার জন্য আবাস যোজনায় ১ লক্ষ বাড়ি তৈরির টাকা ছেড়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষকে জব কার্ডের জন্য সিলেকশন করা হয়েছে। এছাড়াও গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় কেন্দ্র ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান।

    মুখ্যমন্ত্রীর জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তা ধীরে ধীরে কাটছে। ফলে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আবাস, এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি বলেন, 'শুভেন্দুবাবু সব বাধা দূর করেছেন। এবার উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে।' তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশ মেনে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে আরও জোর দেওয়া হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

    শুধু আবাস যোজনাই নয়, এ দিনের বৈঠকে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জানান, যাঁরা বর্ষাকালে আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ দিন কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, বিরূপ পরিস্থিতিতে কর্মদিবসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি বীরভূম জেলার নলহাটি ২ নম্বর ব্লকে আবাস যোজনার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগ ওঠে, একাধিক ব্যক্তি ভুয়ো তথ্য দিয়ে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ পেয়েছেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ২২ জনকে টাকা ফেরতের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই আগে থেকেই পাকা বাড়ি ছিল। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও আবাস যোজনার আওতায় প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। কেউ দাবি করেছেন, পরিবারের অন্য সদস্যের নামে বাড়ি থাকায় তাঁরা আবেদন করেছিলেন। আবার কেউ জানিয়েছেন, আলাদা সংসার করার কারণে তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তবে সব ক্ষেত্রেই নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রের এই নতুন অর্থ বরাদ্দ পশ্চিমবঙ্গে আবাস যোজনার গতি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপও প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এখন ঘোষিত অর্থ কত দ্রুত প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় সেটাই দেখার। 
  • Link to this news (আজ তক)