• ঋতব্রত শিবিরে দায়িত্ব পেয়েই ফের ময়দানে অনুব্রত, বিকাশ-বিধানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক
    প্রতিদিন | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ঋতব্রত শিবিরে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে ফিরে পেতেই সংগঠন গোছানোর কাজে নেমে পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। গত কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন তিনি। ফিরে পান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ। এরপরেই তৃণমূল নেতা বিকাশ রায়চৌধুরী এবং নানুরের তৃণমূল বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন অনুব্রত মণ্ডল। সোমবার রাতে বোলপুরের জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। তবে কি নিয়ে বৈঠক তা স্পষ্ট নয়। যদিও সূত্রের দাবি, জেলার সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন অনুব্রত। এছাড়াও সামনেই ২১ জুলাই। তা নিয়ে তিননেতার মধ্যে চর্চা হয়েছে বলে খবর।

    যদিও বৈঠক শেষে বিকাশ রায়চৌধুরী এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে বিধানচন্দ্র মাঝি বলেন, অনুব্রতদা আগে আমাদের কোর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। এখন জেলা সভাপতি হয়েছেন। তাই দেখা করতে এসেছিলাম। পাশাপাশি একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিধানচন্দ্র মাঝির এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে ঋতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক বলেন, আমি কাজলদার সঙ্গেও আছি, অনুব্রতদার সঙ্গেও আছি। দলের নির্দেশ, সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে। কাজল-কেষ্ট বলে কোনও বিভাজনের প্রশ্ন নেই। অনুব্রত মণ্ডলের নেতৃত্বেই জেলার সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে বরাবর অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম। তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটির দলীয় সংগঠন এতদিন ধরে জেলায় গেরুয়া প্রবেশ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকী গরু পাচার মামলায় প্রায় ২ বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে জেলা সভাপতির পদটি অটুট রেখেছিলেন মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’। শেষ লোকসভা ভোটেও বীরভূমের দুটি আসন ধরে রেখেছিল তৃণমূল, তা অনুব্রতর তৈরি শক্ত সংগঠনের উপর দাঁড়িয়েই। পরে অবশ্য জেলা গোষ্ঠীকোন্দল বাড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এককভাবে কেষ্টর উপর দায়িত্বভার ছাড়েননি। বীরভূমের সংগঠন দেখার জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন কোর কমিটি। অনুব্রত তাতে একজন সদস্যমাত্র ছিলেন। আর তা থেকেই ক্ষোভের সঞ্চার। আর সেই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেছেন অনুব্রত! তা কার্যত স্পষ্ট।
  • Link to this news (প্রতিদিন)