এবার পুরুলিয়ায় গ্রেপ্তার ইনফ্লুয়েন্সার, ভোটের আগে তৃণমূলের পক্ষে পোস্টের মাশুল?
প্রতিদিন | ১৪ জুলাই ২০২৬
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের আগে পর্যন্ত তৃণমূলের পক্ষে প্রচার করতে গিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাগাতার উসকানিমূলক ভিডিও পোস্ট, বিশেষ করে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়ককে টার্গেট করে। কিন্তু পালাবদলের পর বদলে যায় পোস্টও। তবে তাতে শেষরক্ষা হল না। সোশাল মিডিয়ায় একসময়ে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এবার পুরুলিয়ায় গ্রেপ্তার এক ইনফ্লুয়েন্সার। সোমবার রাতে পুরুলিয়া থানার পুলিশের হাতে তিনি ছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানি ছাড়াও বাউড়ি সম্প্রদায়ের যুবককে হুমকি, মারধরের অভিযোগ রয়েছে। দু’জনকেই আজ পুরুলিয়া আদালতে পেশ করার সময়ে ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের সভাপধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তিনজনের পুলিশ হেফাজত শেষে ফের তাঁদেরও তোলা হবে আদালতে।
‘পাশে আছি পুরুলিয়া’ নামে একটি ফেসবুক পেজ চালান তুষার অবস্থি। আগে বজরং দলের সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লাগাতার উসকানিমূলক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ। জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি গৌরব সিংও এসএফআই, বজরং দল করে ওই একই বছর তৃণমূলে যোগ দিয়ে জেলার যুব সভাপতি হন। এরপর দু’জন মিলে তৃণমূলের হয়ে প্রচারমূলক পোস্ট, ভিডিও তৈরি করে সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করতেন। তবে মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তুষারই। বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা অকারণে পুরুলিয়া সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ, পুরুলিয়া শহরে তারকা সাংসদ দেবের এক অনুষ্ঠানে পাস দেওয়ার দায়িত্ব পেয়ে তুষার নানা শর্ত দিয়েছিলেন। তাঁর পেজের ফলোয়াররা পাস পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছিলেন।
তুষারের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া তুষার এবং গৌরবের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি অ্যাট্রোসিটির মামলাও দায়ের হয়েছে। ২০২১, ২০২২ ও ২০২৬ সালে পুরুলিয়া শহরে মুনসেফডাঙার একটি বুথে বাউড়ি সম্প্রদায়ের এক যুবককে মারধর ও হুমকির অভিযোগে ওই আইনে মামলা হয়েছে। ধৃত গৌরবের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূল করলে মামলা হবেই।” এছাড়া এসসি/এসটি অ্যাট্রোসিটি মামলায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন জেলা পরিষদের ধৃত সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘কী ধারা যুক্ত হয়েছে, আমি জানি না। পুলিশ বলতে পারবে।”