: দুই ভাইকে ফোন করে ডেকে হাসুয়ার কোপ! ব্রাউন সুগারের নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে মাদক কারবারির হাতে খুন দাদা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাই, খুনের অভিযোগ ব্রাউন সুগার কারবারির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্য মালদহের কালিয়াচকের জালুয়াবাথাল এলাকায়। বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক যুবককে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন এবং তাঁর ছোট ভাইকে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কালিয়াচক থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আশরাফুল শেখ (৩২)। ঘটনায় আহত হয়েছে তাঁর ছোট ভাই সাদিকুল শেখ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মৃতের বাবা রাকিব শেখের অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবেশী শিলু শেখ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্রাউন সুগারের কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এদিন সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ শিলু ফোন করে তাঁর দুই ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে, দুই ভাইকে হাসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারা হয়েছে। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা আশরাফুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আর এক ছেলে সাদিকুল আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।”
মৃতের দাদা আজিজুল শেখ জানান, আশরাফুল ও সাদিকুল দু’জনেই দিনমজুরের কাজ করতেন। অভিযুক্ত শিলু শেখের সঙ্গে আশরাফুলের ছোটবেলা থেকেই বন্ধুত্ব ছিল। তবে কী কারণে এমন নৃশংস হামলা করা হল বুঝতে পারছি না। তাঁর অভিযোগ, “শিলু দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, বিশেষ করে ব্রাউন সুগারের কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং সেই কারণেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের সন্দেহ।”
যদিও ব্রাউন সুগার সংক্রান্ত এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, “মাদক কারবারের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত শিলু শেখের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন।” এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে জালুয়াবাথাল গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।