রেলের খাবারে পাতে পড়ল মেয়াদ উত্তীর্ণ বাসি পাউরুটি। দেশের অন্যতম প্রিমিয়াম ট্রেন নিউ দিল্লি-রানি কমলাপতি শতাব্দী এক্সপ্রেসে (New Delhi-Rani Kamalapati (Bhopal) Shatabdi Express) যাত্রীদের সকালের খাবারে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি পরিবেশনের অভিযোগ। সেই ঘটনায় এ বার কড়া পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC)। ঘটনার তদন্তের পরে সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ক্যাটারিং ম্যানেজার-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া (ডি-রস্টার) হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নিউ দিল্লি-রানি কমলাপতি শতাব্দী এক্সপ্রেসে। গত শনিবার, ১১ জুলাই সকালে ট্রেনে সি-৪ কোচের ৭৪ জন যাত্রীকে ব্রেকফাস্টে প্যাকেটের পাউরুটি দেওয়া হয়। পরে এক যাত্রীর নজরে আসে যে পাউরুটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। ব্রেডের প্যাকেটের গায়ে 'Use By' তারিখ লেখা ছিল ১০ জুলাই ২০২৬, অর্থাৎ সেটির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বিষয়টি অন্য যাত্রীদের জানালে সবাই নিজেদের প্যাকেট পরীক্ষা করে একই তথ্য পান। ততক্ষণে অনেকেই সেই ব্রেড খেয়ে ফেলেছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। তাদেরও ওই মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়ার পরেই যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়াদ ফুরোনো পাউরুটি খাওয়ার ফলে অনেকেই ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ, কোচের বাইরে রাখা আরও কয়েকটি ক্যাটারিং প্যাকেটেও একই ব্রেড ছিল। যাত্রীরা তৎক্ষণাৎ রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিকভাবে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর IRCTC—
এ ছাড়া পুরো ঘটনার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে খাদ্যের গুণমান পরীক্ষার উপর আরও কড়া নজর দিতে বলা হয়েছে।
IRCTC জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও খাদ্যের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রেনের খাবারের মান খারাপ থাকার ঘটনা এই প্রথম নয়। রাজধানী, শতাব্দী ও বন্দে ভারতের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে খাবারের মান নিয়ে অতীতেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে, খাবারের মেয়াদ, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের আগে যথাযথ পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাটারিং পরিষেবায় নজরদারি আরও বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।