বাংলাকে দু-হাত উপুড় করে দিচ্ছে কেন্দ্র! কী কী সুবিধা
আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
দীক্ষা ভুঁইয়া: পশ্চিমবঙ্গে গ্রামোন্নয়ন, আবাসন, কৃষি ও পরিকাঠামো খাতে একাধিক বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল কেন্দ্র। চলতি অর্থবর্ষের ৩১ মার্চ পর্যন্ত গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রের তরফে ৮,৫০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের অংশ যুক্ত হলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,০৬৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি। একইসঙ্গে ১ লক্ষ আবাসের অনুমোদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনে উন্নীত করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে অতিরিক্ত ৫০ দিনের কাজ, কৃষিক্ষেত্রে পৃথক রোডম্যাপ এবং পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের ‘সিড হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, গ্রামোন্নয়ন খাতের বরাদ্দের অর্থ গ্রামীণ রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, কৃষিজমির সংযোগ রাস্তা, পুকুর সংস্কার এবং বিপর্যয় মোকাবিলার মতো প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। কর্মসংস্থানের মেয়াদ ১২৫ দিনে বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত ৫০ দিনের কাজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় কাঁচা বাড়ির সমীক্ষার সময়সীমা ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে সমীক্ষার কাজ চলাকালীনই ১ লক্ষ আবাসের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। শারীরিক যাচাই শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ২৪৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ এবং ৫০ কোটি টাকার কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডও অনুমোদন করা হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের জন্য পৃথক বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর), রাজ্যের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। কৃষি-জলবায়ু, মাটির গুণমান এবং জলসম্পদের ভিত্তিতে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের বীজ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আলু ও হাইব্রিড ভুট্টার বীজ উৎপাদন, ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং চুঁচুড়া রাইস রিসার্চ স্টেশনকে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’-এ উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। মালদহে আম, লিচু-সহ ফলচাষের উন্নত চারা উৎপাদনের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।
ডিজিটাল কৃষি মিশনের আওতায় কৃষক নিবন্ধন ও ‘ফার্মার আইডি’ তৈরির জন্য ২৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য যোজনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশনের বাস্তবায়নে কেন্দ্র পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
কিষান ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পে বিশেষ অভিযান চালানোর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। নাবার্ড, ব্যাঙ্ক এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে শিবির করে যোগ্য কৃষকদের কিষান ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পে যোগ্য কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন বাধা ছিল। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ৮২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার রাস্তা, জাতীয় সড়ক, রেল, মেট্রো এবং গ্যাস পাইপলাইন-সহ পরিকাঠামো প্রকল্পের জট কাটিয়ে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।