আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার, মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে দিঘার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের পবিত্র শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রা মহোৎসব। সেই উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও লক্ষাধিক ভক্ত, তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভগবান শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলদেব ও দেবী সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দির অভিমুখে এই যাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় ঐতিহ্যবাহী পাহাণ্ডি-বিজয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথ, শ্রীবলদেব ও দেবী সুভদ্রাকে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও হরিনাম-সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে তিনটি সুসজ্জিত রথে অধিষ্ঠিত করা হবে। দুপুর ১টা থেকে আড়াইটে পর্যন্ত চলবে রথসজ্জা ও ভোগ নিবেদন। বিকেল ৩টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ শিশির অধিকারী। এরপর বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিকেল সাড়ে ৩টেয় শুরু হবে মহারথযাত্রা। বিকেল সাড়ে ৪টায় রথ গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছবে এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় সেখানে অনুষ্ঠিত হবে পাহাণ্ডি-বিজয়।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস বলেন, "রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানবতা, সমতা ও সর্বজনীনতার বার্তা বহনকারী এক মহোৎসব। ভগবান শ্রীজগন্নাথ নিজেই ভক্তদের কাছে পৌঁছে যান। তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে এই ঐতিহাসিক রথযাত্রায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, দিঘার শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির বর্তমানে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভক্তদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং ভক্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আর্থিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের কথায়, "রাজ্যের বিভিন্ন প্রধান রথযাত্রার মতো দিঘার শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টারকেও ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যা উৎসবের আয়োজনকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করতে সহায়ক হবে।"
শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ সকল ভক্ত, তীর্থযাত্রী, দর্শনার্থী এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এই মহাপবিত্র রথযাত্রা মহোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।