• মাহেশে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল নবযৌবন উৎসব
    আজকাল | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: মহাসাড়ম্বরে পালিত হল জগন্নাথ দেবের নবকলেবর, অর্থাৎ জগন্নাথ দেবের নবযৌবন উৎসব। শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এদিন নিবেদন করা হল ৫৬ ভোগ। নানা গয়নায় রাজবেশে ভূষিত হলেন জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রা। শুধুমাত্র আজই দেখা যাবে জগন্নাথ দেবের দুই হাত। 

    মঙ্গলবার সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই মন্দিরের মূল ফটক-সহ গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য। এই দিন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরেও পালিত হয় নবকলেবর উৎসব। সেখানেও জগন্নাথ দেবকে জাঁকজমক করে তার আরাধনা করা হয়। নবকলেবর উৎসবের ঠিক একদিন পরেই অনুষ্ঠিত হয় মূল রথযাত্রা উৎসব। কথিত রয়েছে এই নবযৌবন উৎসবের পরেই জগন্নাথ দেব রথে চড়ে মেসির বাড়ি যান ঘুরতে। আগে মহাধুমধাম করে পালিত হয়েছে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। 

    কথিত আছে স্নানযাত্রা যাত্রা উৎসবের পর জগন্নাথ দেবের কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। ১৫ দিন অনাবসর সেবা চলেছে। তার পর এদিন মহাপ্রভু সুস্থ হয়ে উঠলে সেই দিনটিকে পালন করা হয় নবযৌবন উৎসব রূপে। এদিন মহাপ্রভু জন্য ৫৬ রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। একইসঙ্গে এই দিনে জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রা তিন জনকে রূপোর হাত ও অলঙ্কার পরিয়ে নতুন রুপে রাজ বেশে সাজানো হয়। 

    এদিন মাহেশের নবযৌবন উৎসবকে ঘিরে কার্যত চাঁদের হাট বসে সকাল থেকেই। জগন্নাথ দেবকে পুজো দিতে মাহেশ মন্দিরে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি, চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। 

    মন্দিরের প্রধান সেবায়েত সোমেন অধিকারী বলেন, “এদিন হল শুক্ল পক্ষের অমাবস্যা তিথি। এদিনই পালন করা হয়ে থাকে প্রভু জগন্নাথ দেবের নবযৌবন উৎসব। মাহেশ মন্দিরের নবযৌবন উৎসব বিখ্যাত। এতদিন ধরে মন্দিরে অনাবসর সেবা চলেছে। সকাল থেকেই ভক্তদের জন্য মন্দিরে দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রভুকে পুষ্পমাল্যে ভূষিত করা হয়েছে। সোনার মুকুট, হার ও হাত পরিয়ে দেয়া হয়েছে। রাজা সেজে বসে রয়েছেন জগন্নাথ দেব।” 

    সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, “এই দিনেই হোম-যজ্ঞ, পুজো পাঠের মাধ্যমে মহাপ্রভুর অভিষেক অর্থাৎ প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন সকল ভক্তরা প্রভুকে গুটকা সন্দেশ ও বালা সন্দেশ মিষ্টান্ন নিবেদন করতে আসেন।” 

    মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “মহেশের জগন্নাথ মন্দির ঐতিহাসিক। ৬০০ বছরের বেশি প্রাচীন। এতদিন দূর থেকে রথ দেখেছি। ভগবানকে মন্দিরে দেখার সুযোগ পাইনি। আজ নবযৌবন প্রাপ্ত হয়েছেন ভগবান। বিশেষ পুজো উৎসবে এসে মন্দিরে ভগবানকে দেখার সুযোগ পেলাম। এতদিন ভক্তদের দান দক্ষিণায় পুজো পাঠ রথযাত্রা সব কিছু হয়ে এসেছে। সরকারেরও একটা দায়িত্ত্ব থেকে যায়। তাই এই ধরনের প্রাচীন মন্দির ঐতিহ্যশালী, সেখানে সামান্য অনুদান দেওয়া হয়েছে।” এদিন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর বিধায়ক কৌস্তব বাগচি জানান, মাহেশের মন্দিরে তিনি এর আগেও এসেছেন। এটাকে তিনি নিজেদের একটা ধর্মীয় উৎসব মনে করেন। মাহেশের জগন্নাথ দেব ঐতিহাসিক। হিন্দুদের সরকার হয়েছে। সনাতনীদের সরকার হয়েছে। তাই হিন্দুদের পুজোর আচার-আচরণ গুরুত্ব পাবে।
  • Link to this news (আজকাল)