• এবার শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের, জারি নির্দেশিকা
    আজ তক | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সোমবার বৈঠক। মঙ্গলবারেই SOP। রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্পনসরড স্কুলে শিক্ষক বণ্টন নিয়ে বড় পরিবর্তনের পথে শিক্ষা দফতর। যে স্কুলে কোনও ছাত্রছাত্রী নেই (Zero Enrolment School) অথবা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন, সেখানকার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অন্য স্কুলে বদলি করা হবে। বলাই বাহুল্য, শিক্ষকের অভাব রয়েছে, এমন স্কুলেই তাঁদের পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট করতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) প্রকাশ করা হয়েছে।  

    কোনও স্কুলে যদি পড়ুয়াই না থাকে, অথচ সেখানে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী কর্মরত থাকেন, তাহলে তাঁদের আর সেই স্কুলে রাখা হবে না। বদলি করে এমন স্কুলে পাঠানো হবে, যেখানে ছাত্রসংখ্যা বেশি হলেও শিক্ষক কম। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক আছেন, এমন স্কুলগুলিতেও নজর দেওয়া হবে। সেখান থেকে শিক্ষকদের একইভাবে বদলি করবে শিক্ষা দফতর।

    কোন স্কুলে বদলি করা হবে?
    শিক্ষা দফতর Pupil-Teacher Ratio (PTR) বা ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের ভিত্তিতে শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করবে। অর্থাৎ, যে স্কুলে একজন শিক্ষকের উপর অনেক বেশি ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব রয়েছে, সেই স্কুলগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    জেলা স্তরে মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিক্ট ইন্সপেক্টর (DI) এবং প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রে ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (DPSC) এমন স্কুলের তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকায় স্কুলের নাম, জেলা, ব্লক, প্রয়োজনীয় শিক্ষকের সংখ্যা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তথ্যও থাকবে।

    শিক্ষকরা কি নিজের পছন্দের স্কুল বেছে নিতে পারবেন?
    হ্যাঁ। বদলির জন্য চিহ্নিত শিক্ষকরা তিনটি পছন্দের স্কুলের নাম জানাতে পারবেন। শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলের প্রকাশিত তালিকা থেকেই এই পছন্দ করতে হবে।

    প্রশাসন চেষ্টা করবে সেই পছন্দ অনুযায়ী বদলি করতে।
    তবে যদি কোনও শিক্ষক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পছন্দের স্কুল না জানান, অথবা সিলেক্টেড স্কুলে শূন্যপদ না থাকে, তাহলে প্রশাসন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনও শিক্ষক-সংকট থাকা স্কুলে তাঁকে পাঠাতে পারবে। সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে ধরা হবে।

    অতিরিক্ত শিক্ষক বাছা হবে কীভাবে?
    যেসব স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন, সেখানে বর্তমান স্কুলে যাঁরা বেশি দিন ধরে কর্মরত, তাঁদেরই আগে বদলি করা হবে। অর্থাৎ, সেই স্কুলের পুরনো টিচাররাই বদলির আওতায় আসবেন। মাধ্যমিক স্তরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক হিসাবেও এই মূল্যায়ন হবে।

    অন্যদিকে, প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে ধরা হবে না। তবে সহকারী শিক্ষকরা এই তালিকায় থাকতে পারেন।

    ছাত্রহীন স্কুলগুলির কী হবে?
    SOP-এ বলা হয়েছে, যদি কোনও ছাত্রহীন স্কুল থেকে সমস্ত শিক্ষক ও কর্মীকে অন্যত্র বদলি করা হয়, তাহলে ওই স্কুলের বিল্ডিং ও সম্পত্তির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর অব স্কুলস সাময়িকভাবে গ্রহণ করবেন। তিনি স্কুলের সম্পদের হিসাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

    এছাড়াও যেসব মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্র নেই, কিন্তু অনুমোদিত শিক্ষকপদ রয়েছে, সেই পদগুলি প্রত্যাহার করে শিক্ষক-সংকট থাকা অন্য স্কুলে স্থানান্তরের কথাও SOP-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

    শিক্ষা দফতরের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটাই। যেখানে শিক্ষক কম, সেখানে প্রয়োজন মেটানো। তবে শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মতে, সিনিয়রিটির ভিত্তিতে বদলি এবং অতিরিক্ত শিক্ষক নির্ধারণের বিষয়টি ভবিষ্যতে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। 
  • Link to this news (আজ তক)