‘আসল’ তৃণমূল নির্ধারণের আগেই কোন যুক্তিতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত? হাই কোর্টে প্রশ্নের মুখে স্পিকার
প্রতিদিন | ১৫ জুলাই ২০২৬
কোন পক্ষ আসল তৃণমূল আর কোনটি নয়, তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের আগেই স্পিকার বিরোধী দলনেতা ঠিক করে দিলেন! এটা কিভাবে সম্ভব? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার সেই প্রশ্নই তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, এদিন এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের আবেদন জানালে তাও ফিরিয়ে দেয় বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ।
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠলেও শেষমেশ স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছিল কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধন্তে বিরোধিতায় মামলা দায়ের করেছিলেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শুনানি শেষে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার সিদ্ধন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। আদালত জানায়, স্পিকারের সিদ্ধন্তে হস্তক্ষেপ করার মতো আইনগত ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সিঙ্গেল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন শোভনদেব।
এদিন সেই মামলারই শুনানি ছিল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানি পর্বে ঋতব্রতর আইনজীবী জয়দেব কর সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। তার প্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোন পক্ষটি আসল রাজনৈতিক দল (তৃণমূল), তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। কে বিরোধী দলনেতা হবেন, তা স্পিকার নির্ধারণ করবেন। কিন্তু কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্পিকার তড়িঘড়ি করে দলের একটি অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে ঘোষণা করলেন! কীভাবে একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে দিলেন!
যদিও এদিন আদালতে জয়দীপ কর একনাথ শিন্ডের মামলার রায় উল্লেখ করছেন। বর্তমানে এই রাজনৈতিক দলগুলির আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন। তাঁর দাবি, যখন কোনও দলত্যাগ বিরোধী আবেদন ঝুলে নেই, তখন দশম তফসিল প্রযোজ্য হতে পারে না। বুধবার ফের এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।