• বিশ্বকাপে বিরল ঘটনা, ইংল্যান্ড-আর্জেন্তিনা সেমিতে নিজেদের নিয়ম ভাঙতে বাধ্য হলো FIFA
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ইংল্যান্ড ও আর্জেন্তিনার মহারণের আগে বিশ্বকাপে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। কঠোর নিয়মের জন্য পরিচিত ফিফা (FIFA) এ বার নিজেই সেই নিয়মে ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়ামে অনুমোদনহীন কোনও সংস্থার নাম, লোগো বা বিজ্ঞাপনের অস্তিত্বই দেখা যায় না। কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। কারণ স্টেডিয়ামের বিশাল ছাদের উপর থাকা মার্সিডিজ-বেঞ্জের বিখ্যাত লোগো ঢেকে দেওয়ার সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বহু বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের নিয়ম ভেঙেই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে FIFA-কে।

    লোগো ঢাকতে গিয়ে বড় সমস্যায় ফিফা

    বিশ্বকাপের জন্য স্টেডিয়ামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ছাদের উপর থাকা মার্সিডিজ-বেঞ্জের বিশাল লোগো সরানো বা ঢেকে দেওয়া যায়নি। সাধারণত ফিফা তাদের স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষায় অন্য কোনও সংস্থার নাম বা ব্র্যান্ডিং দৃশ্যমান থাকতে দেয় না। কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থাপত্যই। ছাদের বিশেষ নকশা এবং লোগোর বিশাল আকারের কারণে সেটি ঢাকার চেষ্টা করলে বড় ধরনের কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার কাছে হার মেনে নিজেদের কঠোর নিয়মেই ব্যতিক্রম ঘটাতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।

    স্টেডিয়ামের নকশাই হয়ে উঠল বাধা

    স্টেডিয়ামের ভাঁজ করা যায় এমন ছাদটি আটটি বিশাল অংশ নিয়ে তৈরি। প্রতিটি অংশের ওজন প্রায় ৫০০ টন এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ ফুট। ফলে সাধারণ বিজ্ঞাপনের মতো সহজে লোগো ঢেকে দেওয়া সম্ভব ছিল না। ২০২৫ সালের শুরুতে স্টেডিয়ামের পরিচালন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম ফুলারটন (Adam Fullerton) এই বিষয়ে বলেছিলেন, ‘লোগো শুধু ছাদের উপরই নেই। স্টেডিয়ামের বাইরের বিভিন্ন অংশেও রয়েছে। আর সেগুলো ছোট নয়, খুবই বড়। নকশার অংশ হিসেবেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।’

    নিয়মের সঙ্গে বাস্তবতার সংঘাত

    ফিফার ‘ক্লিন স্টেডিয়াম’ নীতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠোর নিয়মগুলির মধ্যে একটি। এই নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভিতরে-বাইরে অনুমোদনহীন কোনও সংস্থার নাম, লোগো থাকবে না । এবং ফিফা অনুমোদনের বাইরে অন্য বাণিজ্যিক প্রচার করা যাবে না। এমন কী উপরের দিকেও কোনও ব্র্যান্ডের নাম চোখে পড়লে সেটিও ফিফার অনুমতি ছাড়া রাখা যায় না।

    কিন্তু আটলান্টা স্টেডিয়ামের ক্ষেত্রে সেই কঠোর নিয়মই এসে ধাক্কা খেয়েছে বাস্তবতার কাছে। স্টেডিয়ামের স্থায়ী নকশা এবং বিশালাকার কাঠামোর কারণে মার্সিডিজ-বেঞ্জের লোগো নিরাপদে ঢেকে দেওয়ার কোনও উপায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিশেষ ছাড় দিয়েছে ফিফা। শুধু তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামের ছাদও বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাহায্যে খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য একই রকম পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

    এখন নজর সেমিফাইনালে

    লোগো বিতর্ক মিটে যাওয়ার পর এখন সব নজর ইংল্যান্ড-আর্জেন্তিনা সেমিফাইনালের দিকে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এই দ্বৈরথের আরও একটি অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে আটলান্টা স্টেডিয়াম। মাঠের বাইরের আলোচনা যতই থাকুক, শেষ পর্যন্ত সকলের চোখ থাকবে মাঠের লড়াইয়ের উপরই।
  • Link to this news (এই সময়)