দার্জিলিংয়ে গাড়ি নিয়ে নদীতে নেমে সর্বনাশঁ! জলের মাঝে আটকে পড়ল গাড়ি, কী হল শেষমেশ? দেখুন ভিডিও
News18 বাংলা | ১৫ জুলাই ২০২৬
বর্ষার মরশুমে নদীর বাড়ন্ত স্রোত যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তারই এক জীবন্ত উদাহরণ সামনে এল দার্জিলিং জেলার দুধিয়া ডাম্পেতার এলাকায়। মঙ্গলবার বালাসন নদীতে একটি গাড়ি নিয়ে নেমেছিলেন কয়েকজন যুবক-যুবতী। প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। প্রবল স্রোতের চাপে গাড়িটি নদীর মাঝখানে আটকে পড়ে এবং ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দের বেড়ানো পরিণত হয় আতঙ্কে।
গাড়ির ভিতরে চারজন আটকে পড়েছেন জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা প্রথমে নিরাপদ উপায়ে উদ্ধারকাজের চেষ্টা করলেও নদীর স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েক মিনিটের দেরি হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। নদীর পাড়ে তখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছিলেন উপস্থিত সকলেই।
এই পরিস্থিতিতেই অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন এক স্থানীয় যুবক। নিজের কোমরে দড়ি বেঁধে কোনও কিছু না ভেবেই তিনি উত্তাল বালাসন নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে তিনি গাড়ির কাছে পৌঁছন এবং একে একে চারজনকে নিরাপদে নদীর তীরে নিয়ে আসেন। তাঁর এই সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া চারজনই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ওই যুবকের সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। উপস্থিত মানুষের কথায়, নিজের জীবনের কথা না ভেবে অন্যের প্রাণ বাঁচানোর জন্য যেভাবে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তাঁর এই মানবিকতা এবং সাহসিকতা সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মত প্রকাশ করেন অনেকে।
অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণের প্রশ্ন। বর্ষাকালে পাহাড়ি নদীর জলস্তর মুহূর্তের মধ্যে বেড়ে যেতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও অনেকেই ছবি তোলা বা রোমাঞ্চের নেশায় নদীর মধ্যে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করেন। প্রশাসন এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সেই সতর্কতাকে অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দুধিয়ার এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিল, সামান্য অসতর্কতা যে কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই বর্ষার সময় পাহাড়ি নদীর ধারে বা নদীর মধ্যে কোনও ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করার জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের প্রতি আবারও আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।