এই সময়, লাভপুর: তরুণ বয়সের স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য ৯৮ বছরের চিকিৎসক সুকুমার চন্দ্র ওরফে বিশু ডাক্তার। দিনটা ছিল ১৯৪৭-এর ১৫ অগস্ট। লাভপুরে স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তারাশঙ্কর। তাঁর সঙ্গে প্রভাতফেরিতে যাঁরা পা মিলিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একমাত্র জীবিত রয়েছেন বিশু ডাক্তার।
'বন্দে মাতরম' ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল লাভপুরের আকাশ-বাতাস। আজ, ১৫ জুলাই 'বন্দে মাতরম'-এর দেড়শো বর্ষপূর্তি উৎসব। সেই উপলক্ষে লাভপুরের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন নবতিপর চিকিৎসক।
'বন্দে মাতরম' ধ্বনির সঙ্গে লাভপুরের যেন নাড়ির যোগ। সে দিনের কথা বলতে গিয়ে রীতিমতো স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন তিনি। ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গের আবহে লাভপুরে বর্তমানে প্রয়াত নির্মলশিব বন্দ্যোপাধ্যায়, নিত্যগোপাল মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, শশাঙ্কশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জেলার প্রথম নাট্যমঞ্চ 'বন্দে মাতরম থিয়েটার'।
সেখানে নাটক মঞ্চস্থ করা দীর্ঘ দিন আগে বন্ধ হয়ে গেলেও থিয়েটারটি এখনও সে দিনের স্মৃতি বুকে আগলে দাঁড়িয়ে আছে। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থা দিল্লি সঙ্গীত-নাটক অ্যাকাডেমির উদ্যোগে বন্দে মাতরম-এর দেড়শো বছর পূর্তি উৎসবের আয়োজন করেছে লাভপুরের বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় সারা দেশের সঙ্গে লাভপুরে দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে রয়েছে বন্দেমাতরম রথ নিয়ে পদযাত্রা। রয়েছে উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় রচিত এবং অন্বেষা ঘোষ নির্দেশিত 'বন্দেমাতরম'-এর ইতিহাস ও বিবর্তন ভিত্তিক গবেষণাধর্মী নাটক 'বন্দেমাতরম: এক দেশ, এক মন্ত্র'।
বয়সকে তুড়ি মেরে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বিশু ডাক্তার। বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর কর্ণধার উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, বিশু ডাক্তারের মতো মানুষকে পেয়ে আমরা গর্বিত। তাঁকে দিয়ে ভারতমাতার প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হবে।'