এই সময়: বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের অসহযোগিতায় রাজ্যে ৮২,৪৯২ কোটি টাকার কাজ আটকে ছিল। তারা ক্ষমতায় আসার পরেই সেই টাকা পাওয়ার সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর হয়েছে। সোম ও মঙ্গল — দু’দিনের রাজ্য সফরের শেষলগ্নে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার জন্য ওই টাকায় একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে শিবরাজ জানান, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন বাদ দিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ গঠন অসম্ভব। মু্খ্যমন্ত্রী জানান, ভোটে তাঁরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, ‘হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ’। তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
চৌহান জানান ‘বিকশিত ভারত জি রামজি’ প্রকল্পে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্র বরাদ্দ করেছে ৮,৫০৮ কোটি টাকা। রাজ্যের অংশ মিলিয়ে মোট পরিমাণ ১২,০৬৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দৈনিক ৩০০ টাকা, অর্ধ দক্ষদের ৪৫০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের ৬০০ টাকা মজুরি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে (যেমন এল নিনিও বা খরা) প্রয়োজনে আরও ৫০ দিন অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হবে, যাতে গ্রামীণ মানুষকে কাজের সন্ধানে পরিযায়ী হতে না হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্ষার কারণে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কাঁচা বাড়ির তালিকা তৈরির সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যাতে ঘর পেতে দেরি না হয়, তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই এক লক্ষ বাড়ির অনুমোদন সরাসরি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন শিবরাজ।
দিনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনায় রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৮০ লক্ষ মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে ২৪৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক লোন এবং ৫০ কোটি টাকার ‘কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (সিআইএফ) একযোগে রিলিজ় করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ৮০ লক্ষ মহিলাকে লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
আলু এবং পাট চাষে দেশের প্রথম সারিতে থাকলেও বীজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ভিন রাজ্যের মুখাপেক্ষি জেনে বিস্মিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কৃষিক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে স্বনির্ভর ও বৈজ্ঞানিক মডেলে নিয়ে যেতে আইসিএআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ)-এর বিজ্ঞানীদের সহায়তায় এক মাস্টারপ্ল্যান বা ‘এগ্রিকালচার রোডম্যাপ’ তৈরি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ রাজ্যে পাটের বীজ অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আর আলুর বীজ পাঞ্জাব থেকে আসে! শিবরাজ জানান, পশ্চিমবঙ্গকে সমগ্র পূর্ব ভারতের প্রধান ‘বীজ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হাইব্রিড ভুট্টা এবং আলুর বীজ বাংলার মাটিতেই তৈরি হবে, যার জন্য একাধিক মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মালদহ জেলায় আম, লিচু ও অন্যান্য উদ্যানপালন ফসলের চারা তৈরিতে ১০০ কোটি টাকার একটি আইসিএআর প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। হুগলির চুঁচুড়ায় ধান্য গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ হিসেবে গড়া হবে। কৃষকদের ডিজিটাল আইডি বা ফার্মার্স রেজিস্ট্রি তৈরিতে ২৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চাষিদের যাতে মহাজনদের দ্বারস্থ না হতে হয়, তার জন্য গ্রামে নাবার্ড ও ব্যাঙ্ক প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্যাম্প করে ‘কিসান ক্রেডিট কার্ড’ দেওয়া হবে।
বাংলার গ্রামাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা তৈরি হবে। প্রথম পর্যায়ে ১০০০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে।