• ঢালাও ফুল-বদল হবে না, প্রচার চালাবে পদ্ম
    এই সময় | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যাওয়ায় পদ্মের নিচুতলার নেতা–কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় পদ্ম–বিগ্রেডের অনেকেই এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই সুযোগে ঘোলাজলে মাছ ধরতে চাইছে সিপিএম ও তৃণমূলের একাংশ। তারা বিজেপি কর্মীদের কানে কানে প্রচার করছে, ‘যাহা তৃণমূল, তাহাই বিজেপি’ তত্ত্ব। রাজনৈতিক ভাবেই এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চাইছেন বঙ্গ–বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় স্তরে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি জেলায় গিয়ে এ বিষয়ে পদ্ম–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন রাজ্য নেতারা। তাঁদের বোঝানো হবে, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কিন্তু এটাও ঠিক যে, সুখেন্দুশেখররা ব্যতিক্রম। এর পুনরাবৃত্তি হবে না।

    ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরেই জেলায় জেলায় বিজেপির দরজায় কড়া নাড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। দলবদল করতে চান তৃণমূলের অনেকেই। পরিস্থিতি আঁচ করে শমীক সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আপাতত পার্টির দরজা বন্ধ। এখন কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’ কিন্তু সুখেন্দুশেখররা বিজেপিতে চলে আসার পরেই জেলায় জেলায় নিচুতলার তৃণমূল কর্মীরা নতুন উদ্যমে বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন।

    উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের এক প্রাক্তন ব্লক সভাপতির কথায়, ‘আমার মতো অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসতে চান। শমীকবাবুর কথামতো এতদিন দরজা বন্ধ ছি‍ল। কিন্তু এখন দেখছি, তৃণমূলের রাজ্যসভার তিন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়ে ফের রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, শমীকবাবুরা দরজা খুলে দিয়েছেন।’ অন্য দিকে, বিজেপির নিচুতলার উৎকণ্ঠা বাড়াতে সিপিএম প্রচার করছে, দাগি তৃণমূল নেতারাই ধীরে ধীরে বিজেপিতে ঢুকে পড়বেন, তখন আদি বিজেপি নেতারা ব্রাত্য হয়ে পড়বেন দলে।

    এ সব প্রচার যাতে কোনও ভাবেই বিজেপি কর্মীদের মনোব‍ল ভাঙতে না পারে, তার জন্য দ্রুত জেলায় জেলায় পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরির কর্মসূচি শুরু করতে চলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথায়, ‘তৃণমূল নেতাদের শেল্টার দিতে নয়, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাশ করাতেই তৃণমূল সাংসদদের দলে নেওয়া হচ্ছে। এই বৃহত্তর স্বার্থ সম্পর্কেই অবগত করা হবে বিজেপির নিচুতলার নেতা–কর্মীদের। আশা করি, পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সুদুরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানার পরে বিজেপি কর্মীদের আর কোনও ক্ষোভ থাকবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)