এই সময়: ক্যাম্পাসে দুর্নীতির জেরে এ বার কি জেল যাত্রা হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদেরও?
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে মঙ্গলবার তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের দাবি, গত দু’মাসে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে বিকাশ ভবনে। তাতে চুরি–দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ সামনে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে উচ্চশিক্ষা দপ্তর কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলকে (সিএজি বা ক্যাগ) দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেব–নিকেশের অডিট করানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পথ ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একাংশের জেল যাত্রার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে জেলে যেতে হয়েছিল।
জগন্নাথ এ দিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গোলমাল ধরা পড়লে, প্রাতিষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে উপাচার্যদের ঘাড়ে সেই ভুলভ্রান্তির দায় চাপবে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে চেয়ারম্যান করে শিক্ষা–সহ নানা দপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করেছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যদি কোনও এক–দু’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রেসিডেন্সি, দমদম অথবা আলিপুরে (জেলে) দেখেন, অবাক হওয়ার কিছুই নেই।’
রাজ্যের বিজেপি সরকারের দাবি, এই জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা প্রশাসন এবং রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। জগন্নাথের বক্তব্য, ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের পাশাপাশি ৩৪ বছরের বাম সরকারের জমানাতেও প্রশাসনে দুর্নীতি ও শিক্ষায় রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। মন্ত্রীর কথায়, ‘ফার্মাসি, আইটিআই, বিএড, পলিটেকনিক কলেজ তৈরি ও বেসরকারিকরণের নামে ডিগ্রির দোকান খোলা হয়েছে গত ১৫ বছরে। আমরা তা নজর রাখছি।’ কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোট নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকলে, তবেই তো ছাত্র ভোট হবে! আমার কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ, আকর্ষণ ফেরানো। যখন যথেষ্ট সংখ্যক পড়ুয়া ফিরতে শুরু করবে, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনই ছাত্র ভোট হবে।’
এ দিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী ও ‘বন্দেমাতরম’ গানের সার্ধশতবর্ষ এবং সংগঠনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শ্যামবাজার থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) মিছিলেও ছাত্র ভোটের দাবি ওঠে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বীরেন্দ্র সোলাঙ্কি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। সরকারের কাছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষ থেকেই স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক নেতা উঠে আসা প্রয়োজন, যাঁরা ভবিষ্যতে সমাজ গঠন করবেন।’
কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে জগন্নাথ বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ হবে। মুখ দেখাদেখি করে নয়। এই ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়েই ইতিবাচক ভাবে শিক্ষক ও গবেষক নিয়োগ করা রাজ্য সরকারের মূল কাজ। তাই এ ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করতে চাই না আমরা। সরকার নির্দিষ্ট পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে। কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উচ্চশিক্ষায় নিয়োগের ক্ষেত্রে থাকবেন না।’