• সভাপতির আসনে উপনির্বাচন, বিহারে প্রেস্টিজ ফাইটে ফাঁপরে বিজেপি
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এসআইআরের পর বিহারের ভোটে বিপুল জয় এসেছে এনডিএ শিবিরের। বহু বছরের স্বপ্নপূরণ করে রাজ্যে নিজেদের মুখ্যমন্ত্রীও পেয়েছে বিজেপি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার অস্তাচলে। তেজস্বী যাদবের দল মনোবল হারিয়েছে অনেকটাই। কংগ্রেসের অস্তিত্ব একপ্রকার নগণ্য। এহেন রাজ্যের একটিমাত্র বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন বিজেপির কাছে হয়ে উঠেছে প্রেস্টিজ ফাইট। উপনির্বাচনে সচরাচর শাসক দলই জয়ী হয়। এক্ষেত্রেও বাঁকিপুর আসনে জয়পরাজয় নিয়ে বিজেপির চিন্তার কারণই থাকতে পারে না। বিশেষ করে এই আসন পরম্পরাগতভাবেই বিজেপির দখলে। কিন্তু সমীকরণ বদলে দিয়েছে দুইটি ফ্যাক্টর। প্রথমত এই আসনেরই বিধায়ক ছিলেন নীতিন নবীন। তিনি বর্তমানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং রাজ্যসভার এমপি। তিনি বিধায়ক পদ ছাড়ায় এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। সুতরাং খোদ দলের সর্বভারতীয় সভাপতির ছেড়ে দেওয়া আসনে বিজেপি যদি আবার জয়ী হতে না পারে সেটি এক সম্মানহানি। আর দ্বিতীয় ফ্যাক্টর হলেন প্রশান্ত কিশোর। 

    জনসুরাজ পার্টির সুপ্রিমো প্রশান্ত এই প্রথম নিজেই লড়াইয়ের ময়দানে। নরেন্দ্র মোদি, নীতীশকুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু একের পর এক নেতানেত্রীর দলকে নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি প্রদান করে তিনি জয়ী করেছেন নির্বাচন। তিনি যে নির্বাচনটা ভালো বোঝেন, তা নিয়ে সংশয় নেই। বিহার বিধানসভা ভোটে তাঁর দল সফল না হলেও সাড়ে ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ফলে প্রশান্তকে অগ্রাহ্য করতে পারছে না বিজেপি। বিজেপির কোনও হেভিওয়েট নেতা রাজিই হননি এই আসনে প্রার্থী হতে। প্রার্থী নিয়েও নাজেহাল বিজেপি। প্রথমে যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল, সেই অভিষেক সিনহা আচমকা সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। এরপর নীরজ সিনহাকে প্রার্থী করা হয়েছে। বায়োডেটায় বলা হয়েছিল তিনি ২০০৬ সালে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। যা নিয়ে আলোড়ন। কারণ তাঁর জন্ম ১৯৯৪ সালে। তাহলে কি তিনি ১২ বছর বয়সে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন? বিব্রত বিজেপি আবার নতুন করে বায়োডেটা প্রকাশ করেছে। সবমিলিয়ে একটিমাত্র বিধানসভা উপনির্বাচন রাজনীতির ক্ষেত্রেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)