• দীঘা রথের সকালে মমতার কেনা সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করবেন শিশির অধিকারী
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: ১৫ দিনের অনসর পর্ব শেষে আজ, বুধবার থেকে  ভক্তদের দেখা দেবেন জগন্নাথদেব। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রার উৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তুঙ্গে। এক পক্ষকাল আগে স্নানযাত্রার পর জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছিলেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। আয়ুর্বেদিক পাঁচনে সুস্থ হয়ে তাঁরা আবার ভক্তদের মাঝে হাজির হবেন। রথযাত্রার পূর্ণাঙ্গ সূচি ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছে জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে পূর্ব ঘোষণামতো দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রার জন্যও পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্ন থেকে জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথ কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়ার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসকের অফিসে অন্যান্য রথযাত্রা কমিটির পাশাপাশি জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে চেক তুলে দেন জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা সহ  জনপ্রতিনিধিরা। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় .বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তিময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে পাহাণ্ডি বিজয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হবে। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে মন্দির থেকে তিনটি সুসজ্জিত রথে আনা হবে। রথে অধিষ্ঠিত অবস্থায় ভোগ নিবেদন করা হবে। বিকাল সাড়ে তিনটায় মন্দিরের ২ নম্বর গেটের সামনে রথযাত্রার সূচনা করবেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেনা সোনার ঝাড়ু দিয়েই সড়ক সাফ করে রথযাত্রার সূচনা করবেন শিশিরবাবু। তারপর তিনটি রথ মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবে। গতবছর মন্দির উদ্বোধনের সময় সোনার ঝাড়ু দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যয় হয়েছিল পাঁচ লক্ষ টাকা। এবার সেই সোনার ঝাড়ুই উঠবে শিশিরবাবুর হাতে। বিকাল সাড়ে চারটায় রথ গুণ্ডিচা মন্দির অর্থাৎ মাসির বাড়িতে পৌঁছবে। সাড়ে পাঁচটায় সেখানে ফের পাহাণ্ডি বিজয় অনুষ্ঠান হবে। ইতিপূর্বে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার পৃথক তিনটি রথ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ছ’টা থেকেই ভক্তদের জন্য খুলে যাবে জগন্নাথদেবের দুয়ার। তার আগে প্রতীকী স্নানের পাশাপাশি নতুন পোশাকে সাজিয়ে তোলা হবে জগন্নাথ ও তাঁর ভাইবোনেদের। এরপর হবে মঙ্গলারতি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার জন্য জগন্নাথদেবকে ভোগ দেওয়া হয়নি, তাই দুপুরে ৫৬ ভোগে থাকবে এলাহি আয়োজন। জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সদস্য  রাধারমণ দাস বলেন, রথযাত্রা মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন ও সর্বজনীন আধ্যাত্মিক উৎসব। ভগবান জগন্নাথ নিজেই তাঁর মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে সকল মানুষের প্রতি করুণা ও আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। আমরা সকলকেই এই মহাপবিত্র ও ঐশ্বরিক মহোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি।  দীঘায় রথযাত্রার প্রস্তুতি।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)