• জঙ্গলে ঢুকতেই চালককে কোপ ৩ যাত্রীর, সর্বস্ব লুট, বালিগঞ্জ থেকে শান্তিনিকেতন যাওয়ার ক্যাব বুক
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর: ছিলেন দূরপাল্লার যাত্রী—কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন। গভীর রাতে, গভীর জঙ্গলে সেই যাত্রীরাই হয়ে উঠলেন মূর্তিমান বিভীষিকা! আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি নিয়ে হামলা। গাড়ি সহ সর্বস্ব খুইয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাবচালক পবন রাম। পুলিশ গাড়িটি উদ্ধার করেছে। বেপাত্তা যাত্রীবেশী দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থল শান্তিনিকেতন থানার চিপকুটি জঙ্গল। পরে পারুই এলাকার খিরুলি গ্রামের বাসস্ট্যান্ড থেকে অ্যাপ নির্ভর ক্যাবটি উদ্ধার করে পুলিশ।  

    ঘটনাটি পুরোপুরি বলিউডি সিনেমার নিখুঁত স্ক্রিপ্টের মতোই। অ্যাপে গাড়ি বুক। নির্ধারিত লোকেশন বালিগঞ্জে পবন রাম আসতেই তিন যাত্রী গাড়িতে ওঠেন। সোমবার তখন রাত প্রায় এগারোটা। গন্তব্য শান্তিনিকেতন। দীর্ঘ পথে যাত্রীরা খোশমেজাজেই ছিলেন। আর পাঁচজন যাত্রী যেমন থাকেন। তাঁদের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নজরে পড়েনি পবনের। ভোর প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ শান্তিনিকেতনের চিপকুটি জঙ্গলে গাড়িটি পৌঁছতেই স্বমূর্তি ধারণ করেন যাত্রীরা। প্রথমে তাঁরা পবনকে গাড়ি থামাতে বলেন। তিনযাত্রী নেমে যায়। দীর্ঘক্ষণ গাড়িটি নিয়ে ঠায় বসে থাকেন পবন। এরপর আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়ে গাড়ির চাবি ও টাকা দাবি করেন যাত্রীরা। তা দিতে অস্বীকার করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরমধ্যেই একজন ধারালো ছুরি নিয়ে পবনের উপর হামলা চালান। তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখানো হয় বলেও পবনের অভিযোগ। গভীর জঙ্গলে যাত্রীদের এমন সশস্ত্র হুমকির মুখে পড়ে অসহায় বোধ করেন গাড়ির চালক। সেই সুযোগে পবনের মানিব্যাগ সহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন ওই তিন যাত্রী। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গাড়ি নিয়ে মিলিয়ে যায় জঙ্গলে।আর্তচিৎকার জুড়ে দেন পবন। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। পবনকে উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। 

    মঙ্গলবার হাসপাতালের বেডে শুয়ে হাড়হিম করা ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন পবন। বলছিলেন, ‘আমি কলকাতা শহরে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপ নির্ভর গাড়ি চালাই। এমন ভয়াবহ ঘটনার মুখে আগে কখনও পড়িনি। যাত্রীরা যে মুহূর্তে দুষ্কৃতী হয়ে উঠবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি। ইন্টারসিটি অপশন বুক করে শান্তিনিকেতনের জন্য ওরা বালিগঞ্জ থেকে গাড়িতে উঠেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে, ছুরি দিয়ে কুপিয়ে ওরা সব কেড়ে নিয়েছে।’

    একাধিক প্রশ্নকে সামনে রেখে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এত দূরের নির্জন জঙ্গলই কেন বেছে নিল দুষ্কৃতীরা? পরিকল্পনা করেই কি বুকিং করা হয়েছিল? অভিযুক্তরা কি কোনো ছিনতাইচক্রের সদস্য? নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে? সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। অ্যাপ বুকিংয়ের তথ্যও সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। পবন কিছুটা সুস্থ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)