বেহাল পরিষেবা-দুর্নীতির অভিযোগে বাঁকড়া ৩ নম্বর পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ, ভাঙচুর
বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নাগরিক পরিষেবা না পাওয়া, বর্ষায় নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়া, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকা সহ একাধিক অভিযোগে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ডোমজুড়ের বাঁকড়া ৩ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিস চত্বর। তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শতাধিক বাসিন্দা অফিস ঘেরাও করেন। বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত অফিসের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন এবং ডিম ছোড়েন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। বহু রাস্তা খানাখন্দে ভরা, নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার হয় না, পানীয় জলের সমস্যাও মারাত্মক। পাশাপাশি ত্রিপল, কাপড় সহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বহু পরিবার বঞ্চিত। তাঁদের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের বাদ দিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সাধারণ শংসাপত্র দিতেও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন বাসিন্দারা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে না ঢোকা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে তাঁদের। বিক্ষোভকারী বাসন্তী ভুঁইঞা, রিহানা বিবি, সোনালি বেগমরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, গত কয়েক বছরে এলাকার উন্নয়নে পঞ্চায়েত কোনো কাজই করেনি। ভোটের সময় শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেতারা। তাঁরা সাধারণ মানুষের কথা ভাবেননি।
তাঁদের দাবি, পঞ্চায়েতে লাগামছাড়া দুর্নীতি চলছে এবং সেই কারণেই সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ডেপুটেশনও দেন। বিক্ষোভের সময় ‘চোর চোর› স্লোগান ওঠে। এরপর আচমকা পঞ্চায়েত অফিসের জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। প্রধানের ঘর লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন অফিসেই ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান টুকটুকি শেখ। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, রাস্তা ও নর্দমা সংস্কারের একাধিক কাজ ইতিমধ্যেই হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় জল জমছে। নর্দমা পরিষ্কারের কাজ বর্তমানে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে চলছে। তিনি বলেন, যাঁরা সরকারি প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তা, তাঁরা নিয়ম মেনেই সুবিধা পাচ্ছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা বণ্টনে কোনো অনিয়ম হয়নি। শেষমেশ পুলিশের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।