• ছ’টি পুরসভার চেয়ারম্যানের ইস্তফা, পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুর মহকুমার প্রায় সব পুরসভাতেই নির্বাচিত বোর্ডের চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করেছেন। তার জেরে মহকুমার শহরাঞ্চলে নাগরিক পরিষেবা কার্যত লাটে উঠেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শ্রীরামপুর মহকুমায় প্রতি বর্ষায় জমা জলের সমস্যা বড়ো আকার নেয়। তখন ওই জল বের করতে পাম্প চালানো সহ নানা পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়। এবার বর্ষার মুখে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, আবার কোথাও গোটা বোর্ডই পদত্যাগ করেছে। ফলে, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও জাঁকিয়ে বসেছে। পাশাপাশি, প্রাত্যহিক পরিষেবা যেমন সাফাই, আলো, পানীয় জল, রাস্তা সারাই সহ একাধিক কাজে ডামাডোল শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

    অধিকাংশ পুরসভায় অস্থায়ী কর্মীদের ভাতা বকেয়া রয়েছে। সময়ে সেই টাকা না পাওয়ায় ওই অংশের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় ওই অস্থায়ী কর্মীরা কী পদক্ষেপ করবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে পুরসভার কর্মীরা। কাউন্সিলারদের তদারকিতে এতদিন পাড়ায় পাড়ায় সাফাই সহ নানা কাজ পরিচালিত হত। অনেক পুরসভাতেই কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেছেন। ফলে কাজের তদারকি নিয়ে সংকটের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনিকভাবে সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হবে। যদিও বাস্তবে তা হয় না বলেই মনে করছেন বাসিন্দারা। নাগরিকদের এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে বামদলগুলি।

    বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন, সাধারণ মানুষকে লুট করেছে তৃণমূল। তারা নিজের আখের গুছিয়ে নাগরিকদের বিপাকে ফেলে পালিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যে কোনো উপায়ে নাগরিক পরিষেবা বহাল থাকুক। প্রয়োজনে আমরাও পথে নামব। আরএসপির হুগলি জেলার সম্পাদক মৃন্ময় সেনগুপ্ত বলেন, আর যাই হোক, প্রশাসক দিয়ে পুরসভার মতো প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না। অতীতে তা আমরা দেখেছি, নাগরিকরাও দেখেছেন। সংকটের দায় তৃণমূল এবং বিজেপি, উভয় দলেরই সমান। হুগলি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সব পুরসভা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

    হুগলির শ্রীরামপুর মহকুমায় সাতটি পুরসভা রয়েছে। বৈদ্যবাটি থেকে ডানকুনি পর্যন্ত পুরসভা এলাকার বিস্তার। এর মধ্যে বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, ডানকুনি, উত্তরপাড়া ও কোন্নগরে পদত্যাগের জেরে বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। রিষড়াতেও ভাঙনের মুখে। এর মধ্যে শ্রীরামপুর, কোন্নগর, ডানকুনিতে জল জমার সমস্যা আছে। ভারত সরকারের কাছ থেকে তিনবার সাফাইতে সেরার পুরস্কার পাওয়া বৈদ্যবাটি পুরসভার সাফাই নিয়ে নাগরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে শ্রীরামপুর মহকুমা জুড়ে নাগরিক সংকট ভয়াবহ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)