• রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে হাওড়ায় নিকাশি সংস্কারে গতি
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষায় জল জমার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে হাওড়া শহরে। রেলের অধীনে থাকা রানি ঝিল পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় নিকাশির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরছে লিলুয়ায়। রেলের দাবি, টিকিয়াপাড়া রেল ইয়ার্ডে অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত স্বয়ংক্রিয় পাম্প বসানোয় ট্রেন লেটের ভোগান্তি কমছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিকাশি সংস্কার ও জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত জল নামছে বলেও দাবি। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, রেল ও রাজ্যের সমন্বয়ের অভাবে উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে লিলুয়া, টিকিয়াপাড়া সহ রেললাইন সংলগ্ন অঞ্চল বর্ষাকালে দিনের পর দিন জলমগ্ন থাকত। নিকাশিনালা পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে দু’পক্ষের মতানৈক্যের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ত। সরকার পরিবর্তনের পর রেল ও রাজ্য যৌথভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে টিকিয়াপাড়ায় সিঙ্গল ব্যারেল চ্যানেলের উৎসস্থলের উপর গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তি সম্প্রতি সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করেছে রেল। পূর্ব রেলের আধিকারিক ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল এলাকা পরিদর্শন করে কালভার্টের নীচে থাকা বড়ো নিকাশিগুলি পরিষ্কারের কাজও শেষ করেছে। একইসঙ্গে রেলের অধীনে থাকা রানি ঝিল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। রেলের পরিদর্শনে দেখা যায়, রেলের জমি থেকে রানি ঝিলে এসে মেশা ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি পয়েন্ট বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় প্রায় সম্পূর্ণ বুজে গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই চারটি নিকাশি পয়েন্ট পরিষ্কার হয়েছে। অন্যদিকে, ভাগাড় সংলগ্ন বড়ো হাইড্র্যান্ট পরিষ্কারের কাজও রাজ্যের তরফে অনেকটাই এগিয়েছে। ফলে লিলুয়ার একাধিক ওয়ার্ডে জল জমার সমস্যা কিছুটা হলেও কমেছে।

    পূর্ব রেলের ডিআরএম বিশাল কাপুর বলেন, বর্ষায় টিকিয়াপাড়া রেল ইয়ার্ডে জল জমার কারণে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে সময়সূচিতে তার প্রভাব পড়ে। সেই সমস্যা দূর করতেই ইয়ার্ডে আইওপি ভিত্তিক সেন্সরযুক্ত স্বয়ংক্রিয় পাম্প বসানো হয়েছে। বৃষ্টির জল নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়ালে ওই পাম্প নিজে থেকেই চালু হয়ে দ্রুত জল বের করে দিচ্ছে। এর জন্য কোনো কর্মীকে জল জমার উপর আলাদা করে নজর দিতে হচ্ছে না। একই ব্যবস্থা লিলুয়া ও সাঁতরাগাছি কারশেডের পাশাপাশি বেলুড় ও গড়পা আন্ডারপাসে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআরএম।
  • Link to this news (বর্তমান)