এক্সপ্রেসওয়ে শ্যুটআউটে ধৃত তিন, পরিকল্পনা করেই খুন রাজা? তদন্তে পুলিশ
বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দমদমে শ্যুটআউটে কুখ্যাত দুষ্কৃতী জগদীশ দত্ত ওরফে রাজা (৫২) খুনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সুমন রায়, সৌমিক দাস ওরফে পিন্টু, কুন্তল চৌধুরী ওরফে কুণাল। তাদের বাড়ি দমদম থানা এলাকায়। প্রমোদনগর এলাকা থেকে সোমবার রাতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে এই শ্যুটআউটের ঘটনা পরিকল্পিত নাকি আচমকা ঘটেছে, নেপথ্যে থাকা চক্রান্তকারী কারা, আদৌ নিজের পিস্তলে রাজা খুন হয়েছে নাকি অতর্কিতে হামলা চালিয়ে জখম করার পর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয়েছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং বলেন, খুনের কাণ্ডে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনায় যুক্ত সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উত্তর দমদম পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিগড়, আদর্শপল্লির বাসিন্দা জগদীশ দত্ত ওরফে রাজা। রবিবার মধ্যরাতে দমদমের খলিসাকোটা এলাকার বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন রাজা। তার বোন মোনালিসা দত্ত দমদম থানায় লিখিত অভিযোগে বলেছেন, দাদা রবিবার রাত সাড়ে ১১টার সময় দীপ দত্ত ও কুমারজিতের সঙ্গে বেরিয়েছিল। কুমারজিতকে তার বাড়িতে ছাড়তে যাচ্ছিল। সোমবার সকালে আমরা দাদার মৃত্যুর খবর পাই। বাকি দু’জন আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমরা জেনেছি, রাত ১টা নাগাদ আমার দাদা সহ তিন জনকে খলিসাকোটা এলাকায় আটকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর দাদাকে গুলি করে খুন করা হয়। তিনি এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবে সুমন, রতন, পিন্টু ও কুণালের নাম লিখেছেন। পুলিশের কাছে তাঁর দাবি, পুরানো শত্রুতার জেরে বাবুলাল ও তার সহযোগীরা এই খুনের চক্রান্ত করেছিল।
বাবুলাল রাজার অনুগামী ছিল। তাদের সম্পর্কও ভালো। তাহলে পরিকল্পনা করেই কি রাজাকে ডেকে খুন করা হল? প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি তথা বিরাটির বাসিন্দা শক্তি মিত্র বলেন, আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। গ্যাংওয়ার নাকি চক্রান্ত করে ডেকে এনে খুন, নেপথ্যে কারা রয়েছে তাও প্রকাশ্যে আনতে হবে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশকে পদক্ষেপ করতে হবে।