পূর্ব কলকাতা জলাভূমি: নতুন কোনো নির্মাণে রেজিস্ট্রেশন নয়
বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ব কলকাতা জলাভূমি ভরাট রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করল হাইকোর্ট। ৫০০-র বেশি চিহ্নিত বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানতে চেয়েছে আদালত। কতগুলি বেআইনি নির্মাণ সরানো গিয়েছে, কতটা জলাভূমি আগের অবস্থায় ফিরেছে—এসব তথ্য জানতে চেয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। কলকাতা পুরসভা, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কর্তৃপক্ষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কাছে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, জলাভূমি হিসাবে চিহ্নিত এলাকায় নতুন করে কোনো নির্মাণের রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ সংযোগ যেন বিচ্ছিন্ন থাকে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি বাঁচাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। রাজ্য সরকার, পুরসভা, নগরোন্নয়ন দপ্তরও কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি বাঁচাতে বদ্ধপরিকর। তবে তার জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। যদিও বিচারপতি সিনহার মন্তব্য, ‘গত তিন বছর ধরে এই মামলায় আমার বেঞ্চে শুধু রিপোর্টই জমা পড়ছে। আদালত কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে চায়।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারের উপস্থিতিতে বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, জলাভূমি এলাকায় চিহ্নিত অবৈধ নির্মাণগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, এখন থেকে তা নিয়ে প্রতি মাসে আদালতের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে গড়ে ওঠা সমস্ত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিতকরণ ও ভেঙে ফেলার জন্য হাইকোর্ট একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবেই সেসব নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। এনিয়ে পদক্ষেপ করতে গেলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলে দাবি অনেকের। যদিও এসব আর বরদাস্ত করা হবে না বলে এদিন আদালতকে আশ্বস্ত করেছে রাজ্য প্রশাসন। ১৪ আগস্ট ফের শুনানি।