• ফের বারুইপুর! অপহরণ-নির্যাতনে টার্গেট সেই নাবালিকা, ধৃত অভিযুক্ত
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে রাজ্য। ভাঙচুর, গণপিটুনিতে মৃত্যু, তাণ্ডব বাদ যায়নি কিছুই। চলছে ধরপাকড়। ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যে ফের এক নাবালিকাকে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। স্থান সেই বারুইপুর! এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফের একবার নারী সুরক্ষা নিয়ে উঠে গেল বড়ো প্রশ্ন। যদিও অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম সামাদ মোল্লা। 

    বেলেঘাটা থেকে ওই নাবালিকাকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে বারুইপুরের শাসনে নিয়ে এসেছিলেন অভিযুক্ত যুবক। সেখানে একটি ঘর ভাড়া করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এলাকার লোকজন নাবালিকাকে প্রাপ্তবয়স্ক যুবকের সঙ্গে দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এরপর তাঁরা বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, ঘরে তখন ওই নাবালিকাকে নির্যাতনের চেষ্টা করছিল সামাদ। স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে ধরে ফেলে যুবককে। এরপর দুজনকে ঘরে আটকে রাখা হয়। কেন বয়সে ছোটো কিশোরীকে আনা হয়েছে, প্রশ্ন করা হলে, কোনো উত্তর দিতে পারেনি সামাদ। এরপরই খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। পুলিশ এসে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। সূর্যপুরের ঘটনার পরও নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় রাশ টানা যায়নি। এটা যথেষ্ট উদ্বেগে রাখছে পুলিশকে। অনেকেই বলছেন, নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে এক অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করেছে পুলিশ। তারপরও নির্যাতনের মতো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রবণতা উদ্বেগের শুধু নয়, যথেষ্ট চিন্তারও।

    পুলিশ সূত্রে খবর, বারাকপুরে মামারবাড়িতে মানুষ ওই নাবালিকা। সেখানেই থাকে সে। সোমবার মামা ও মামির সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। ট্রেনে বাসে করে কোনোভাবে বেলেঘাটা বাজারের কাছে পৌঁছায় ওই নাবালিকা। রাস্তার ধারে চুপচাপ বসেছিল সে। সেখানেই মুরগির দোকান রয়েছে অভিযুক্ত যুবকের। তাঁর বাড়ি মথুরাপুরে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। একাকি নাবালিকাকে দেখে এগিয়ে যায় সামাদ। ভাব জমাতে তার সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে সে। খিদে পেয়েছে? জানতে চায় মুরগি ব্যবসায়ী। উত্তরে নাবালিকা জানায়, সে কিছু খায়নি। এরপরই সামাদ বলে, চল তোকে খাওয়াব। তাতে রাজি হয় ওই ১৪ বছরের নাবালিকা। এইভাবে খাবার খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে সেখান থেকে শিয়ালদহ নিয়ে আসে যুবক। তারপর ট্রেন ধরে সরাসরি শাসন স্টেশনে নামে দুজনে। সেখান থেকে ওই এলাকার একটি বাড়িতে চলে যায় সামাদ। ভাড়ার ঘরে ঢুকে নাবালিকার উপর শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা চালানোর সময় এলাকার লোকজন চলে আসতেই রক্ষা পায় নিষ্পাপ নাবালিকা। যুবককে সামান্য মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ধৃতের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে, বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নাবালিকাকে একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে বারুইপুর থানা।  ধৃত সামাদ মোল্লা। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)