মিথ্যা মামলার অভিযোগও খতিয়ে দেখবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিশন
বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারে এসেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিগুলির তদন্ত হবে। এবার সেই তদন্ত কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর। ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজ্য সরকারের শিক্ষা, খাদ্য সরবরাহ, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা, পুর ও পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, শিল্প, পূর্ত, ভূমি, জিটিএসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত করবে এই কমিশন। ঘুষ, তোলাবাজি, উম-পুনের ত্রাণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, মিড ডে মিলের মতো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগগুলি কমিশন খতিয়ে দেখছে। এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা মিথ্যা মামলা রুজুর অভিযোগ থাকলে তারও তদন্ত করবে এই কমিশন।
গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘কমিশন অন ইনস্টিটিউশনাল করাপশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। কমিশনের তদন্ত শাখার নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র আইপিএস আধিকারিক। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ রেভিনিউ সার্ভিসের একজন আধিকারিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসাবে কমিশনকে সহায়তা করবেন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে কমিশন আরও বিশেষজ্ঞ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ কমিশনের কাছে দায়ের করতে পারবেন যে কেউ। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণ হলে এফআইআরের সুপারিশও করবে কমিশন। প্রয়োজনে সম্পত্তি ক্রোকের সুপারিশও করতে পারে তারা।
একই সঙ্গে পুর-আইন লঙ্ঘন করে বেআইনি নির্মাণ, সরকারি চাকরি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দুর্নীতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অনিয়ম, সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগও কমিশনের অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।