• নিউটাউনের গেস্ট হাউসে হাওলা সেন্টার! সোনা, ২ কোটি টাকা সহ গ্রেপ্তার ৭
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: খবর ছিল নিখুঁত। বস্তাবন্দি লক্ষ লক্ষ টাকা ঢুকেছে গেস্ট হাউসে! বড়ো অভিযান। চারপাশ থেকে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। সকাল ১১টা থেকে চলল গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি। বস্তার ভিতর থেকে মিলল ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। সঙ্গে ৬টি ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন, ৫০ গ্রাম সোনা, বেশকিছু মোবাইল এবং কারবারে ব্যবহৃত চারটি গাড়িও। তারপরই সামনে এল হাওলার কারবার। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিউটাউনের গেস্ট হাউসে চক্রের পান্ডারা হাওলার সেন্টার বানিয়েছিল! ওই পয়েন্ট থেকেই চলত লেনদেন। এই চক্রে জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। খোঁজ চলছে চক্রের মাথাদের।

    কারিগরি ভবন সংলগ্ন নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-৩বি এলাকা। স্ট্রিট নম্বর-৭৮৬। ঠিক রাস্তার ধারেই জি প্লাস ফোর বিল্ডিং। সেখানেই চলছিল ওই গেস্ট হাউস। বিধাননগর কমিশনারেটের কাছে খবর ছিল, সেখানে বড়ো ধরনের টাকার কারবার চলছিল। ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার টিম সেখানে হানা দেয়। মাঝরাত পর্যন্ত চলে তল্লাশি। সঙ্গে ছিল টেকনোসিটি থানার পুলিশও। কেয়ার টেকারসহ সাতজনকে আটক করে প্রথমে দীর্ঘ জেরা করা হয়। তারপরই হাওলার খবর সামনে আসে। উদ্ধার হওয়া টাকা রাত পর্যন্ত গোনা হয়। তারপরই সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গসহ ভিন রাজ্যের বাসিন্দারাও রয়েছে। তাদের জেরা করে বাকিদের খোঁজ করছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত ক্যাশ কাউন্টিং মেশিন দিয়েই কোটি কোটি টাকা গোনা হত। বাজেয়াপ্ত চারটি গাড়ির মধ্যে একটি ৩০ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি! 

    হাওলার কারবার সামনে আসার পরই শোরশোল ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, ওই গেস্ট হাউসটি নাকি নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত এক ব্যক্তির। যদিও পুলিশের দাবি, এমন তথ্য এখনো পর্যন্ত মেলেনি। তবে, সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ কমিশনারেট সূত্রের খবর, এই হাওলার সেন্টারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভিন রাজ্য তো বটেই, বিদেশের সঙ্গেও যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। হাওলার টাকা রিসিভ এবং ডিস্ট্রিবিউশনের পৃথক পয়েন্ট থাকে। তবে, এই গেস্ট হাউসে টাকা রিসিভের পাশাপাশি এখান থেকে তা ডিস্ট্রিবিউশনও করা হত। ফলে, এখানে বহু কোটি টাকার লেনদেন হত বলেই পুলিশের কাছে খবর।

    পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত। বাকিদের খোঁজ পেতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। বাজেয়াপ্ত ফোন নম্বরের সূত্র ধরেও পান্ডাদের খোঁজ চলছে। কোন কোন রাজ্যে এই কারবারের জাল ছড়িয়ে রয়েছে, কোথা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ আসত প্রভৃতি যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)