পুলিশ পরিচয়ে অফিসে ঢুকে কোটি টাকা ডাকাতি, মহিলাকে অপহরণ, সন্তোষ ট্রফি খেলা বাংলার ফুটবলার গ্রেপ্তার
বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফুটবল ছেড়ে অন্ধকার জগতে। গ্যাং তৈরি করে বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি খেলা ফুটবলার হয়ে যান গ্যাংস্টার। টালিগঞ্জের এক বেসরকারি সংস্থার অফিসে ঢুকে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মোহন বাগান ফুটবলার অর্জুন চট্টোপাধ্যায়। অভিযুক্ত এই খেলোয়াড়কে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। ধরা পড়েছে তার গ্যাংয়ের আরও ১১ জন সদস্য।
লালবাজার সূত্রে খবর, জুন মাসের মাঝামাঝি টালিগঞ্জ থানা এলাকার লেক অ্যাভিনিউতে একটি অফিসে রাত আটটা নাগাদ প্রাক্তন ফুটবলার অর্জুন তাঁর দলবল নিয়ে হানা দেন। অফিসের কর্মী শিবরামকৃষ্ণন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, পুলিশ কর্মী পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তরা জানায়, এই অফিসে বিভিন্ন অবৈধ কাজকর্ম চলছে। অভিযোগ জমা পড়েছে, তল্লাশি চালানো হবে। অভিযোগকারী এই সংক্রান্ত নথি চাইলে, দুষ্কৃতীরা তাকে মারধর করে। এরপর অফিসে থাকা এক মহিলা কর্মী সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হল বলে জানানো হয়। জেসিকা নামে অফিসের এক মহিলা কর্মী বলেন, ওয়ারেন্ট এবং লেডি কনস্টেবল ছাড়া সন্ধ্যার পর কোনো মহিলাকে গ্রেপ্তার করা যায় না। পুলিশ সেজে থাকা দুষ্কৃতীরা বলে, যে কেস রয়েছে, তাতে যে কোনো মহিলাকে রাতে গ্রেপ্তার করা যাবে। এরপর অফিসে থাকা ল্যাপটপ, সোনার বিভিন্ন সামগ্রী, নগদ ৩০ লক্ষ টাকা সহ মোট কোটি টাকার ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর পাঁচজন অফিস কর্মীকে দুটি গাড়িতে তোলে অভিযুক্তরা। অপহরণের পর তাদের বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়। অভিযোগকারী শিবরামকৃষ্ণন যে গাড়িতে ছিলেন, সেটি শিশুমঙ্গলের সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই সুযোগে অভিযোগকারী কোনোক্রমে পালতে সক্ষম হন। সেই গাড়িতে ছিলেন জেসিকাও। পরে সবাইকে ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর টালিগঞ্জ থানায় ডাকাতি, অপহরণ, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দা বিভাগ ওই অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তা দেখে একজনকে চিহ্নিত করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা, নাম অর্জুন চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন ফুটবলার। ২০১৩ সালে বাংলা দলের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে খেলেছেন। মোহন বাগান ছাড়াও খেলেছেন ইউনাইটেড এসসি ক্লাবেও। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একে একে ধরা পড়ে তার গ্যাংয়ের ১১ সদস্য। অর্জুন জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ফুটবল ছেড়ে সে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। টাকার প্রয়োজন ছিল। পরিকল্পনা করে, গ্যাং তৈরি করে অপরাধ করবে। হাত পাকানোর জন্য টালিগঞ্জের ওই অফিসকে টার্গেট করে। অভিযুক্তদের আইনজীবী শঙ্খজিৎ লাল মিশ্র বলেন, মিথ্যা অভিযোগ। তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে ডাকাতিতে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি।