• অনুমোদন কেন্দ্রের, আবাসে এক লক্ষ বাড়ি পাচ্ছে বাংলা
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাড়ে তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের অনুমোদন পেল বাংলা। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রাজ্যকে ১ লক্ষ বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এদিন নবান্ন সভাঘরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলসহ কেন্দ্র ও রাজ্যের পদস্থ আধিকারিকরা। সেখানে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অন্যান্য রাজ্যে আবাস যোজনার দ্বিতীয় পর্যায়ের উপভোক্তা তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই কাজ শুরু হয়েছে মাসখানেক আগে। ভরা বর্ষার মরশুম চলায় সেই কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই যাচাইয়ের কাজ শেষ করে চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরির সময়সীমা ২০ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ২০ আগস্ট করা হয়েছে। 

    এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পূর্বতন সরকারের আমলে এ রাজ্যে উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন। তবে এবার ৮২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকায় সড়ক, রেল, মেট্রো, গ্যাস পাইপলাইনসহ নানা পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন। গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘ভিবি জি রামজি’ (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্পের সুবিধা দিতে নতুন করে আরও জবকার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চৌহান। সেই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, ‘পশ্চিমবঙ্গে আগামী ৯ মাসে ভিবি জি রামজি-তে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার কাজ হবে। এর মধ্যে ৮,৫০৮ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্র। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, কোনো জেলায় বিশেষ কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আরও ৫০ দিন অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হবে।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই প্রকল্পের অধীনে দক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। 

    এদিন ‘দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা’র অন্তর্গত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ব্যাংক ঋণ দিতে ২৪৫ কোটি এবং ৫০ কোটি টাকার ‘কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সূত্রের খবর, বাংলার আরও পাঁচ লক্ষ ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ২৪০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তার জন্য প্রথমিকভাবে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। 

    কৃষি সংক্রান্ত আলোচনায় চৌহান জানিয়েছেন, আইসিএআরের বর্ষীয়ান বিজ্ঞানীরা বাংলার জন্য ‘বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ’ তৈরি করছেন। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়াকে আনা হচ্ছে ‘ধনধান্য’ কর্মসূচির আওতায়। চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রের উন্নয়ন এবং মালদহে আমের জন্য আইসিএআরের একটি ১০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট ইউনিট গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিন বারাকপুরে ‘কেন্দ্রীয় পাট ও সহযোগী তন্তু অনুসন্ধান সংস্থা’য় কৃষক, বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন চৌহান। সেখানে তিনি এ রাজ্যে পাটের ‘বীজ হাব’ গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। 

     নবান্নে শিবরাজ ও শুভেন্দু।
  • Link to this news (বর্তমান)