• সেন্সাসে এবার স্ব-গণনার সুযোগ, অনলাইনে তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন নাগরিকরা
    বর্তমান | ১৫ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ আগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনা শুরু হচ্ছে। তার আগে আজ, বুধবার থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে গণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবির। কর্মীদের কয়েকটি টিমে ভাগ করে তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রশিক্ষণ। জনগণনার কাজে যুক্ত সরকারি কর্তারা জানাচ্ছেন, দিস্তা দিস্তা কাগজ নিয়ে খাতায়-কলমে জনগণনার দিন শেষ। এবারের সেন্সাস পুরোটাই হবে অনলাইনে, বলা ভালো অ্যাপ-ভিত্তিক। সেই সঙ্গে গণনাকারীদের কাজ কমাতে এবারই প্রথম থাকছে স্ব-গণনার (সেল্ফ ইনিউমারেশন) সুযোগ। অর্থাৎ নাগরিকরা নিজেই তাঁদের সংশ্লিষ্ট তথ্য  ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি সার্ভের সময় শুধুমাত্র তথ্যগুলি মিলিয়ে নেবেন। যেসব নাগরিক নিজে থেকে তথ্য নথিভুক্তি করবেন না, তাঁদের সেই কাজ অবশ্য গণনা কর্মীকেই করতে হবে। 

    কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যে নিজেদের কর্মীদের পাশাপাশি বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সেন্সাসের কাজে নিযুক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ গণনাকর্মী, কেউ কাজের সুপারভাইজার। গণনার কাজে অংশ না নিতে চেয়েও বহু আবেদন জমা পড়েছে পুরসভায়। কলকাতা শহরে জনগণনার ক্ষেত্রে পুরসভাই নোডাল এজেন্সি। সেন্সাস অফিসাররা জানাচ্ছেন, এবারের গণনায় কর্মীদের সেই হাড়ভাঙা খাটুনি নেই। অনলাইনে কাজ অনেকটাই সহজ। তাছাড়া ধরে নেওয়া হচ্ছে, স্ব-গণনার জন্য ওয়েবসাইট খোলা হলে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নাগরিক নিজেদের তথ্য সেখানে নথিভুক্ত করে ফেলবেন। বাকি কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেরে ফেলতে খুব একটা সমস্যা হবে না। 

    জানা গিয়েছে, মূলত তিনটি ধাপে হবে এই আদমসুমারি। ১ আগস্ট থেকে প্রথম ১৪ দিন চলবে স্ব-গণনা। যেখানে নাগরিকদের অনলাইনে ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বাসস্থান, পরিবার, জাতি, মৌলিক সুবিধা ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হবে। সংগৃহীত তথ্য ২০২৭ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত বৈধ বলে গণ্য হবে। পুরকর্তারা জানিয়েছেন,  নাগরিকদের ১ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে স্ব-গণনার ফর্ম পূরণ করতে উৎসাহিত করা হবে। এরপর গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনলাইনে দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন। প্রয়োজনে তাঁরা অনলাইন ফর্ম পূরণেও সহায়তা করবেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ‘ফিল্ড সার্ভে’। বাড়ি ও আবাসন ধরে ধরে সরেজমিনে ঘুরবেন  গণনা কর্মীরা। অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে নথিভূক্ত না হওয়া পরিবারের তথ্য অনলাইনে তুলবেন। তৃতীয় পর্যায়ে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে হবে সর্বশেষ সমীক্ষা। তখন পূর্ণাঙ্গ পরিবারগুলিতে সমীক্ষা হবে। আপাতত ঠিক হয়েছে, প্রত্যেক গণনাকারী ১৫০-১৮০টি পরিবারের সমীক্ষা করবেন। সেখানে পরিবারে কতজন রয়েছেন, সরকারি পরিষেবা কী কী পাচ্ছে তারা, পানীয় জল কোথা থেকে পাচ্ছেন, রান্নার জন্য কী ধরনের জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, গাড়ি আছে কি না, পরিবারের সদস্যদের প্রধান খাদ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্যাদি সংগ্রহ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)