ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর। এবার মণিপুরের সেনাপতি শহরে অসম রাইফেলসের ক্যাম্পে হামলা চালাল উন্মত্ত জনতা। মাঝরাতে আধাসেনার ক্যাম্পে পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যবহৃত একাধিক গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো বেগ পেতে হয় নিরাপত্তাবাহিনীকে। ভিড়ের উপর লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে মণিপুর পুলিশ ও সিআরপিএফ।
নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, সোশাল মিডিয়া পোস্ট ও গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে খবর আসে ওক্লং গ্রামে এনএসসিএন (আইএম)-এর নাগা আর্মির ক্যাম্পের কাছে কিছু সশস্ত্র ক্যাডার ঘোরাফেরা করছিল। এই ক্যাডারদের আনাগোনা যুদ্ধবিরতি নীতির লঙ্ঘন। এই অবস্থায় যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী (সিএফএমজি)কে বিষয়টি জানানো হয়। এরপরই ওই এলাকায় শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় শান্তি বজায় রাখা। তবে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। রাতে সদলবলে তাঁরা হামলা চালায় অসম রাইফেলসের ক্যাম্পে। ক্ষুব্ধ জনতা অসম রাইফেলসের গাড়িতে ভাঙচুর করে, একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, দুটি ট্রাক উল্টে দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামে পুলিশ ও সিআরপিএফ। ক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল। লাঠিচার্জও করা হয় ভিড়ের উপর। মধ্যরাতের মধ্যে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, সেনাপতি এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। রাতের ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনী বা গ্রামবাসী কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গত ৬ জুলাই মণিপুরের উখরুল জেলায় অসম রাইফেলসের কনভয়ে বড়সড় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বন্দুকবাজের অতর্কিত হামলায় শহিদ হয়েছিলেন অসম রাইফেলসের ২ জওয়ান। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার অভিযান চালানো হয় মণিপুরের কামজং জেলার শারাকফুং (সিকিবুং) গ্রাম, টিএম কাসোম এবং লুংফু গ্রামে। সেদিনের হামলায় যুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।