জোর করে খাওয়ানো হোক, সোনমের অনশন ভাঙতে মামলা হাই কোর্টে
প্রতিদিন | ১৫ জুলাই ২০২৬
দেখতে দেখতে ১৮ দিনে পড়ল দিল্লির যন্তরমন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন। নিট কারচুপির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশপ্রেমীর এই অনশন। তাঁকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে সমাজকর্মী-আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি দ্বারস্থ হলেন আদালতে। জনস্বার্থে দায়ের করলেন মামলা। দাবি করলেন, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা হোক বিষয়টিতে। সোনমকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে নিয়ে জোর করে খাইয়ে তাঁর অনশম ভঙ্গ করার দাবি করেছেন ওই আইনজীবী।
তাঁর আবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটেছে। ওজন সাড়ে আট কেজি কমে গিয়েছে। অনশন অব্যাহত থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হতে পারে। আবেদনে আরও বলা হয়, তাঁর মৃত্যু হলে তা দেশ ও বিশ্বের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয় হবে। তাই অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে গত ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এতদিনে সরকারের তরফে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি তাঁর সঙ্গে। বিরোধী দল মৌখিকভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ালেও বড় কোনও নেতাকে অনশন মঞ্চের কাছে দেখা যায়নি। খোঁজ নেই কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের। এদিকে আবার ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের কাউকেই অনশনে বসতে দেখা যায়নি। বরং তাঁর পাশে বসে খেতে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত একার লড়াই শুরু করেছেন তিনি। সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ সোনম অনশন মঞ্চ থেকে ক্ষোভ উগরে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থেই জনগণের কথা শোনা সরকারের উচিত। কঠোর মানসিকতা ছেড়ে তাদের সংবেদনশীল হওয়া উচিত। গণতন্ত্র সহানুভূতি ও সহমর্মিতার ওপর চলে, একগুঁয়েমির ওপর নয়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত তাঁর একগুঁয়ে মনোভাব ত্যাগ করে সংবেদনশীল হওয়া। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে জনগণের কথা শুনলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারেরই লাভ হবে।” তাঁকে ‘হিরো’ প্রতিপন্ন করাও বন্ধ হোক বলে আর্জি জানিয়ে সোনম বলেছেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ। নিজের কর্তব্যটুকু যিনি করছেন।