গত কয়েকমাসে বঙ্গ রাজনীতির সমস্ত সমীকরণই প্রায় বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠবৃত্ত হিসেবে যাদের নাম উচ্চারিত হত, তাঁদের অধিকাংশই তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছে। ভরাডুবির মাঝেও দিদির পাশে ছিলেন মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজন। কিন্তু কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদনও নাকি এবার যোগ দিতে চলেছেন ঋত-শিবির অর্থাৎ ‘আসল তৃণমূল’-এ। এই জল্পনার নেপথ্যে সন্দীপন সাহার বাবা স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে মদনের গোপন বৈঠক। জানা যাচ্ছে, দেখা না হলেও ফোন সন্দীপনের সঙ্গেও কথা হয়েছে মদনের।
পালাবদলের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। এর নেপথ্যে যদি মূল দুজনের নাম করা হয়, তাঁরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী ও পুত্রদের ইডি তলবের পর রাতেই সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে হাজির হন মদন। জানা যায়, প্রায় ২ ঘণ্টা সন্দীপনের বাবা অর্থাৎ এন্টালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দু’জনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। একজন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী, স্বর্ণকমলের ট্রান্সপোর্টের। এছাড়াও দলগত সম্পর্ক বহু বছরের। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাত যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য।
যদিও গতকাল সন্দীপনের সঙ্গে দেখা হয়নি মদনের। এবিষয়ে সন্দীপন বলেন, “মদন দা দীর্ঘদিনের সংগঠক, বিরাট বড় মাপের নেতা। ওনার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, জানিয়েছেন দেখা করতে চান। দেখা হলে নিশ্চয়ই কী চাইছেন সেটা বুঝতে পারব। উনি আমাদের সঙ্গে আসছেন কিনা সেটাও ভালো করে কথা বললেই জানতে পারব।” সূত্রের খবর, আজ অর্থাৎ বুধবার ফের দু’জনের ফোনে কথা হতে পারে। তারপরই স্পষ্ট হবে মদনের গতিবিধি। এদিকে আজই আনুষ্ঠানিকভাবে আসল তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর দেখা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিকেলে একুশে জুলাই নিয়ে ঋত-পন্থীদের বৈঠক হবে তপসিয়ায় জাভেদ খানের কার্যালয়ে। বিধানসভা থেকে সকলের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠকে যেতে পারেন অনুব্রত।